আলমডাঙ্গায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আধুনিক চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা গড়তে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে শহরের এটিম (বড় ফুটবল মাঠ) মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ জনসভা।
জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার সকল ওয়ার্ড এবং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। বিকেল চারটা বাজার আগেই মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জনস্রোত এতটাই বেশি ছিল যে, মাঠের গ্যালারি এবং মঞ্চের পেছনেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ফলে জনসভার প্রভাব পড়ে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে। বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের এই ভিড়ে কিছুটা ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের সুশৃঙ্খল তৎপরতা এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জনসভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দিন রাত পরিশ্রম করে কাজ করছি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী দিনে আমরা একসাথে পথ চলতে চাই। আমরা মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। এই আন্দোলনের ভিতর দিয়ে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী জেলে গেছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। আজকে এত ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য এই ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’।
তিনি আরও বলেন, একটি অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এই ভোট যুদ্ধ। যে ভোট আপনারা এত পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন ১২ তারিখে সেই ভোট যদি আপনারা ব্যালট বাক্সে আনতে না পারেন তবে আফসোসের শেষ থাকবে না। আমারা যারা তৃণমূলে আছি তাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। এবং পরিকল্পনা করতে হবে যে আমরা কীভাবে আমাদের ধানের শীষের প্রত্যেকটি ভোট আমাদের ব্যালট বাক্সে ফেলব এবং গণনার আওতায় আনতে পারব। তখনই আপনদের এই কষ্ট সফল হবে’।
এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই জাতীয়তাবাদী দল আমরা বাংলাদেশের জনগণের পাশে ছিলাম এবং জনগণের কাছে আমরা প্রতিবার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করেছি। আমরা আগামীতে এই ১৫টি ইউনিয়ন বিশিষ্ট আলমডাঙ্গা পৌরসভায় একটি বড় হাসপাতাল আমরা তৈরি করতে চাই। প্রতিটি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতেই আমরা সবার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। আমরা রাষ্ট্রীয় সেবা দানকারী যত প্রতিষ্ঠান আছে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে আমরা দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরির প্রথা এই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে থাকবেনা। মেধার ভিত্তিতে আপনার সন্তানদের চাকরি হবে। আপনাদের পরামর্শ নিয়ে যে সামাজিক পরিবর্তন দরকার আমি সেই পরিবর্তন ঘটাতে চাই এবং মাদকমুক্ত, চাঁদামুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ তৈরি করতে চাই। আমি আপনাদের নেতা নই, আমি আপনাদের ভাই অথবা সন্তান। আমি আপনাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনাদের সেবক হিসাবে থাকতে চাই। আপনাদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদের সঙ্গী হতে চাই। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১২ তারিখের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে চেষ্টা করবেন, যেন একটি ধানের শীষের ভোটও বাক্সের বাইরে পড়ে না থাকে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন এই ধানের শীষ। এই ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য আমি তৃণমূলের প্রতিটি নেতা কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি’।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের ( বিডিচ্যাম) সভাপতি এবং বিশ্বের অনাবাসী প্রবাসীদের শীর্ষ সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট ও সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক। তিনি বলেন, ‘আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও মা-বোনেরা আপনারা অনেক দিন ধরে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কষ্ট করে যাচ্ছেন। কষ্টের বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিন আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন। ১৩ তারিখে আমরা সবাই হাসি মুখে সমস্ত কষ্ট ভুলে যাব ইনশাআল্লাহ’। তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে আপনারা ধানের শীষের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন, আপনাদেরকে আমি স্যালুট জানাই।
তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি আপনারা যদি ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামানকে এমপি বানান এবং জনাব তারেক রহমান এদেশের প্রধানমন্ত্রী হন, আমি কথা দিচ্ছি এই চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গাবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে জনাব তারেক রহমান সুদৃষ্টি দেবেন। চুয়াডাঙ্গা আর ৬৪ নাম্বার জেলা থাকবে না। আমি এই জেলাকে অনেক উন্নত জেলায় পরিণত করে দেব’।
এই সিআইপি আরও বলেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে আমার এবং আমার পরিবারের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই কৃতজ্ঞতা এবং ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না। আপনারা আর মাত্র ৪-৫ দিন কষ্ট করেন আমি কথা দিচ্ছি আমরা বার বার আপনাদের মাঝে ফিরে আসব এবং আপনাদের কথা শুনবো। আমার ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে এই চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার উন্নয়ন করব’।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু বলেন, ‘আজকে আপনারা বাড়ি গিয়ে আপনাদের বাড়ির প্রত্যেক নারী সদস্যদের বলবেন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। এই কার্ডে ২৫০০-৩০০০ টাকা অথবা সমমূল্য পরিমাণ পণ্য পাবেন। কৃষকেরা পাবেন কৃষক কার্ড। যে কার্ডে ১০ হাজার টাকা কৃষি লোন সুদ-আসলসহ মাফ। এছাড়াও বিজয়ী হওয়ার শততম দিন পর ১ লক্ষ বেকার নারী-পুরুষকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন’।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিপক্ষ দল দিচ্ছে মিথ্যা বেহেস্তের টিকিট এবং আমরা দিচ্ছি এদেশের জনগণের খেদমতের জন্য ফ্যামিলি কার্ড। মা-বোনেরা আপনারা আপনাদের বাড়ির আশেপাশে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন এবং ওদের মিথ্যা প্ররোচনায় প্রভাবিত হবেন না’।
বক্তব্যের একপর্যায়ে শহিদুল কাউনাইন টিলু বলেন, ‘তারা ধর্মের দোহাই দেয়। তাদের দেখানো পথ সঠিক নয়। তারা মিথ্যা বেহেস্তের টিকিট দিচ্ছে। ’ এ সময় তিনি ‘নারায়ের তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগান দেন। এবং ধানের শীষের সাথে ধানের শীষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিরুল ইসলাম সেলিম ও শেখ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দার, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাজিদ হাসান, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা ও ছাত্রদল নেত্রী মাইশা আক্তার প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও আসিরুল ইসলাম সেলিম, চুয়াডাঙ্গা জেলা সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান, জেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন, আইলহাস ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, আলমডাঙ্গা উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমদাদ হোসেনসহ উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক