রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ভোটের মাঠ ধীরে ধীরে পরিবর্তন

দলমত নির্বিশেষে বাবু খানের পক্ষে গণজোয়ার
  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০২-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ভোটের মাঠ ধীরে ধীরে পরিবর্তন

ইতিহাস, রাজনীতি ও ভোটের সমীকরণ—সব দিক থেকেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে নানা রাজনৈতিক বাঁকবদলের সাক্ষী। ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এখানে জয় পায়নি। ওই সময় তিনবার বিএনপি এবং একবার করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের আগে আওয়ামী লীগের তেমন কোনো প্রভাব না থাকলেও ওই নির্বাচন থেকে বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী লীগের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়। পরে ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনী মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। ফলে ভোটের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।


এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজিএমইএ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, যিনি এলাকায় ‘বাবু খান’ নামেই বেশি পরিচিত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন। নির্বাচনের প্রচারণায় তারা দিন রাত ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।


এদিকে ভোটের দিন যতই ঘুনিয়ে আসছে মাঠের পরিবেশ ততই পরিবর্তন হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ বাবু খানের পক্ষে কাজ শুরু করায় তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে বাবু খানই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।


দামুড়হুদা উপজেলার প্রবীণ ভোটার সাব্বির আহমেদ বলেন, বাবু খান সারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নেতা। তিনি আমাদের এলাকার মানুষ। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আমাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সবসময় থাকেন। আমরা আশা করি, তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিক্ষক আলম হোসেন বলেন, বাবু খানের রাজনৈতিক দিক ছাড়াও, তার সমাজসেবা এবং মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগই তাকে জনপ্রিয় করেছে।  মানুষ এখন সেই নেতৃত্বের স্বীকৃতি দিতে চায়।
জীবননগরের তরুণ ভোটার আলী হোসেন বলেন, আমরা চাই পরিবর্তন, কিন্তু সংঘাত নয়। আমরা উন্নয়ন চাই। আশা করি বাবু খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এলাকার বেকার সমস্যার সমাধান হবে।


স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণেই বাবু খান দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন।


স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, বাবু খান চুয়াডাঙ্গার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তার দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ভোটারদের বিশ্বাস জোগাচ্ছে। তাই বাবু খানের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে।


চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বাবু খান নিজে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমার লক্ষ্য শুধু নির্বাচিত হওয়া নয়। আমি চাই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মানুষ যেন দারিদ্র‍্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা সমাধান পায়। আমাদের অঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল দায়িত্ব।


উল্লেখ্য, জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন। এই বিপুল ভোটারই নির্ধারণ করবেন আসন্ন নির্বাচনে কার হাতে যাবে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নেতৃত্ব।-



কমেন্ট বক্স
notebook

দর্শনায় বিএনপি-জামায়াতের মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ