বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ফান্টা খাইয়ে ইজিবাইক নিয়ে চম্পট!

  • আপলোড তারিখঃ ৩১-০৮-২০২১ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ফান্টা খাইয়ে ইজিবাইক নিয়ে চম্পট!
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন খোয়ালেন রিপন আলী (২৫) নামের এক ইজিবাইক চালক। গতকাল সোমবার দুপুর দুইটার দিকে যাত্রীবেশে দুই প্রতারক চক্র রিপন আলীকে কোমল পানির সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে তাঁর ইজবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল চত্বরের স্থানীয় ব্যক্তিরা রিপন আলীকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া ইজবাইক চালক রিপন আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীণ রিপন আলী বলেন, ‘দু’জন যাত্রী হাসপাতালে রোগী দেখতে যাবেন বলে আমার ইজিবাইকটি ভাড়া করে। হাসপাতাল থেকে দামুড়হুদার ভাড়া পাওয়া যায় এই আশায় আমি হাসপাতালে যেতে রাজি হয়। তারা আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছিল। হাসপাতালে আসার পর তারা আমাকে ফান্টা (কোমল পানিয়) খেতে দিলে আমি তা খাই। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই আমার মাথায় ব্যথা ও চিনচিন করতে শুরু করে। তারপরে আর কিছু মনে নেয়।’ এদিকে, সদর হাসপাতাল চত্বরে ২৪ ঘণ্টা একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ তিন-চারজন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকার পরেও প্রতারক চক্র ইজিবাইক চুরি করে নেওয়ার ঘটনায় অন্যান্য ইজিবাইক চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইজিবাইচ চালকরা নিজ এলাকার বাইরে যেতেও ভয় পাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছিপাড়ার সাগর হোসেন নামের এক ইজিবাইক চালক বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকায় আমি নিয়মিত যাত্রী আনা-নেওয়া করি। বিভিন্ন সময় রোগী বা রোগীর স্বজনদের নিয়ে অনেক দূরের গ্রামেও যাই। নিজের শহর হওয়ায় হাসপাতাল এলাকায় নিরাপদ মনে হয়। কিন্তু সেই হাসপাতাল এলাকায় যদি প্রতারকদের দখলে চলে যায় তাহলে আমরা কোথাই গাড়ি চালাব আর কোথায় যাব?’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে রিপনকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। প্রতারক চক্র তাঁকে ফান্টা (কোমল পানিয়) খাইয়ে অচেতন করে তাঁর ইজিবাইক নিয়ে পালিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। গণপরিবহনে যাত্রীদের অজ্ঞান করতে একটি বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারীরা। যাকে ট্রাঙ্কুলাইজার বা চেতনানাশক বলা হয়। এই ওষুধ দ্রুত কাজ করে। এতে গভীর ঘুম হয়, আর পরিমাণে কম লাগে। এর বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার আগের বা পরের ঘটনা মানুষ মনে করতে পারে না। তবে যাদের কিডনি বা যকৃতের সমস্যা আছে, তাদের ওপর এই ওষুধ মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ধারণা করা হচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা রিপনকেও ফান্টার সঙ্গে এই জাতীয় ট্রাঙ্কুলাইজার খাইয়ে দিয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে রিপনের পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকা থেকে যাত্রী বেশে দুজন প্রতারক রিপন আলী নামের এক ইজিবাইক চালককে ফান্টার সঙ্গে চেকনানাশক খাইয়ে তার ইজিবাইকটি চুরি করে নিয়েছে বলে দুপুরেই জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ প্রতারক চক্রকটিকে ধরতে কাজ করছে। আমরা সকল সময় সাধারণ মানুষকে বলে থাকি যাত্রাপথে অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু খাবেন না। প্রতারক চক্ররা মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে তাঁদের সুযোগ নেয়। চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ছাড়াও ওষুধ কেনা যাওয়ায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা এই কাজটি খুব সহজেই করে ফেলে। যাত্রা পথে ডাবের পানি ও নিরাপদ নয়। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সচেতনতাই মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ইউএনও পান্না আক্তারের বিদায় সংবর্ধনা