মেহেরপুর অফিস: আমি হিরার একটা থাপ্পড় সহ্য করতে পারলাম না। আমি আমার মা বাবা কে ছোট হতে দেবনা। এচিরকুটটি লিখেই রবিবার বিকালে গলাই উড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে মেহেরপুর শহরের মন্ডলপাড়া এলাকার কলেজ ছাত্রী ফাতেমা জান্নাত ঝিলিক (১৯)। এই ঘটনার অভিযুক্ত নাসরিন আক্তার হিরাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকালে নিহত ঝিলিকের জানাযার নামাজ শেষে পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। আটককৃত নাসরিন আক্তার মন্ডল পাড়ার দবির উদ্দিনের মেয়ে। নিহত ঝিলিক মন্ডলপাড়া এলাকার ঝন্টু শাহার মেয়ে ও মেহেরপুর সরকারী মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাশ ছাত্রী। মেহেরপুর সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরী অভিযুক্ত নাসরিন আক্তার হিরাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ঝিলিকের পিতা ঝন্টু শাহ বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত হিরা কে রবিবার রাতেই আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সোমবার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত: কলেজ ছাত্রী ঝিলিক একই পাড়ার মাসুদের ছেলে কলেজ ছাত্র নিলয় হোসেনের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলো। এ ঘটনাটি নিলয়ের পরিবারের লোকজন জানার পর নিলয়ের দাদী তুতি খাতুন ও ফুঁফু স্বামী পরিত্যক্ত হিরা খাতুন শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালের দিকে ঝিলিকের বাড়িতে গিয়ে চড় থাপ্পড় মেরে ও ঝিলিকের পিতা মাতাকে নানাভাবে অসম্মানজনক কথা বার্তা বলে চলে আসেন। এ অপমান সইতে না পেরে রবিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে উড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের লোকজন ঝিলিকের মৃতদেহ উদ্ধারের সময় তার লেখা প্রেমিক নিলয়ের ফঁফুকে নিয়ে লেখা একটা চিরকুট উদ্ধার করে।