রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চোখের আলো হারিয়েও থামেনি ওমর ফারুকের পথচলা

কি-বোর্ডের শব্দেই বোঝেন লেখা, প্রশিক্ষণ দেন অন্যদের
  • আপলোড তারিখঃ ০১-১১-২০২৬ ইং
চোখের আলো হারিয়েও থামেনি ওমর ফারুকের পথচলা

দুই চোখে আলো নেই, তবু থেমে নেই পথচলা। নিজে কম্পিউটারের পর্দা দেখতে পান না, অথচ সেই কম্পিউটারেই অন্যদের দক্ষ করে তুলছেন। কেবল কি-বোর্ডের শব্দ শুনেই বুঝতে পারেন কী লেখা হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে থমকে যাননি, বরং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমে হয়ে উঠেছেন কম্পিউটার প্রশিক্ষক। তিনি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের ওমর ফারুক।


জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর দুই চোখে গ্লুকোমা ধরা পড়ে। চিকিৎসা করিয়েও দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ২০০৪ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান। ২০০৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১২ সালে এইচএসসি এবং ২০১৮ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পাস করেন।


দৃষ্টিশক্তি না থাকায় কম্পিউটার শেখা তাঁর জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ইউটিউবের সহায়তায় কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেন টাইপিং ও কম্পিউটার পরিচালনার কৌশল।
ওমর ফারুক জানান, ২০১৩ সালে মেহেরপুর সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে ২০১৫ সালের ৭ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তর তাঁকে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে মেহেরপুর সমাজসেবা কার্যালয়ে খণ্ডকালীন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন তিনি।


ওমর ফারুকের শৈশবের বন্ধু তৌফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বন্ধুদের মধ্যে শুধু ওমর ফারুকই চোখে দেখেন না। অথচ অন্ধত্বকে জয় করে নিজের চেষ্টায় তিনি একজন সফল কম্পিউটার প্রশিক্ষক হয়েছেন। তাঁদের অনেক বন্ধু মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে না পারলেও ওমর ফারুক পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত মা খাদিজা খাতুন। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং সেই দক্ষতা দিয়ে অন্যদের শেখানো তাঁর কাছে আনন্দের বিষয়।


মেহেরপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও ওমর ফারুক ১১ বছর ধরে নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তাঁর প্রশিক্ষণের ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি চোখে দেখেন না। কেবল কি-বোর্ডের আওয়াজ শুনেই তিনি বুঝতে পারেন কী শব্দ বা বাক্য লেখা হচ্ছে। তাঁকে স্থায়ী প্রশিক্ষক করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


দৃষ্টিশক্তি হারালেও আত্মবিশ্বাস হারাননি ওমর ফারুক। নিজের যোগ্যতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি যেমন আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন, তেমনি অন্যদেরও দক্ষ করে তুলছেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম প্রমাণ করে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও চেষ্টা ও দৃঢ় মনোবল মানুষকে এগিয়ে নিতে পারে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা ইকরা একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ