জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বালিগর্তপাড়ার মাঠে কৃষকদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এতে মাঠের ৫০০ একর জমির ফসল নিয়ে কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া ও জমিতে যাতায়াত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, বালিগর্তপাড়ার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৃষক চাষাবাদ করে আসছেন। জমিতে যাতায়াত এবং উৎপাদিত ফসল পরিবহনের জন্য মাঠের একটি রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন তারা। তাদের দাবি, জমির মালিক হাবিবুর রহমান হাবু কৃষকদের সুবিধার্থে রাস্তাটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি রিপন বিশ্বাস রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাবিবুর রহমান হাবু রিপন বিশ্বাসের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছিলেন। পরে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কৃষকদের চলাচলের জন্য রাস্তাটি ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে জমিটির মালিকানা ও রাস্তা ব্যবহারের অধিকার নিয়ে এখন দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
হাসাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুম্মাত মণ্ডল বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষকেরা ব্যবহার করে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে চারবার রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করা হয়েছে। সরকারি ও ইউনিয়ন পরিষদের শ্রমিক দিয়েও রাস্তার কাজ করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে হাবু কৃষকদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে মাঠের প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমির কৃষকরা বিপাকে পড়বেন। জমিতে যাতায়াত ও উৎপাদিত ফসল পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে রাস্তাটি কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে রিপন বিশ্বাস বলেন, তিনি একসময় জমিটি হাবিবুর রহমান হাবুর কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে হাবু বিদেশে চলে যাওয়ার পর তিনি জমিটি ফেরত চান এবং পাওনা টাকা পরিশোধ করে জমিটি আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে নেন। বর্তমানে জমিটি তাঁর মালিকানাধীন দাবি করে তিনি বলেন, নিজের জমি রাস্তার জন্য দিতে চান না এবং জমিটি নিজেই ব্যবহার করবেন।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে। জমির মালিক ও মাঠের কৃষকদের নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে বিষয়টি সুন্দরভাবে মীমাংসা করা যায়।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত বিরোধের সমাধান হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে জমিতে যাতায়াত ও উৎপাদিত ফসল পরিবহন করতে পারবেন।
জীবননগর অফিস