বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
হরিণাকুণ্ডুতে মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে

মৃত্যুর পাঁচ বছর পরেও ‘স্বাক্ষর’ করলেন সভাপতি!

  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১০-২০২৬ ইং
মৃত্যুর পাঁচ বছর পরেও ‘স্বাক্ষর’ করলেন সভাপতি!

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
মৃত্যুর পাঁচ বছর পর নথিপত্রে সভাপতির ‘অলৌকিক’ স্বাক্ষর! আর সেই জাল স্বাক্ষরের ওপর ভর করে ব্যাকডেটে চাকরি বাগিয়ে নেওয়া, অতঃপর মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হতেই প্রায় ৮০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য- এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারফলসি দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটির কথিত সুপার ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল, নথি বিকৃতি এবং ব্যাকডেটে ৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে পারফলসি দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল নামের এক ব্যক্তি সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। মাদ্রাসাটি তখন এমপিওভুক্ত না থাকায় তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান। এই সুযোগে হরিণাকুণ্ডু শহরের সিদ্দীকিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত সহকারী শিক্ষক ইয়ারুল ইসলাম পারফলসি মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার আগাম তথ্য পেয়ে জালিয়াতির জাল বিছাতে শুরু করেন।
মাদ্রাসার মূল জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খলিলুর রহমান ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অথচ প্রতারক ইয়ারুল ইসলাম ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানে এসে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে ২০০৪ সাল থেকে কর্মরত দেখান। আর এই জালিয়াতিকে বৈধতা দিতে তিনি ২০১১ সালে মারা যাওয়া সভাপতি খলিলুর রহমানের স্বাক্ষর হুবহু জাল করেন।


বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়লে ইয়ারুল ইসলাম নতুন চক্রান্তের আশ্রয় নেন। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বরের একটি ভুয়া যোগদানপত্র তৈরি করে সেখানে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানাকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ বানিয়ে স্বাক্ষর দেখানো হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াসমিন সুলতানা কখনোই ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করেননি এবং ওই পদে তার কোনো অফিসিয়াল সিল বা স্বাক্ষরও ছিল না। ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষকদের বিভিন্ন ফর্মে স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগে ইয়ারুল ইসলাম চতুরতার সাথে এই ভুয়া যোগদানপত্র নথিভুক্ত করেন।


২০২২ সালে পারফলসি দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলে ইয়ারুল ইসলামের জালিয়াতি পূর্ণ রূপ নেয়। এমপিওভুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাকডেটে অন্তত ৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এই ৮টি পদের বিপরীতে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন করেছেন, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে।


মিজানুর রহমান নামে একজন সচেতন নাগরিকের পক্ষে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল, সরকারি নথি বিকৃতি এবং ব্যাকডেটে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে কোটি টাকার দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে কথিত সুপার ইয়ারুল ইসলামসহ এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুপার ইয়ারুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান। তিনি এও বলেন, যা হবার হয়েছে, এখন যাতে মাদ্রাসাটির ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে কি করা যায় বলুন।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় অস্বচ্ছল ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান