নিজের ও পরিবারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে সুজন আলী। গতকাল সোমবার তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুজন আলী বলেন, তাঁর পারিবারিক বাড়ি নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা দিনমজুর নন; তাঁর বাবার পৈতৃক ও নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে। ২০১০ সালের আগেই তাঁর বাবা প্রায় ৮ থেকে ১০ বিঘা জমি কিনেছেন। তাঁদের বাড়ির জমিও বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি।
সুজন বলেন, বাবার কষ্টার্জিত উপার্জন এবং তাঁর নানার বাড়ি বামনদী এলাকায় থাকা জমি বিক্রির টাকা দিয়ে মূলত তাঁদের বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। তাই বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংযোগ নেই।
নিজের পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার পাশাপাশি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। করোনা মহামারির সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর ছোট পরিসরে গরু ও পোল্ট্রি খামার শুরু করেন। পাশাপাশি বাবার কৃষিকাজেও সহযোগিতা করছেন।
জুয়া ও অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন আলী বলেন, তাঁর নামে জুয়া, অনলাইন জুয়া বা এ-সংক্রান্ত কোনো মামলা নেই। কেউ এমন অভিযোগ করে থাকলে তার প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ প্রকাশের নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুজন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ কতটা বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুজন আরও দাবি করেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর চাচাতো ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাংবাদিক স্বপনের বাড়িও গাড়াডোব গ্রামে এবং তিনি নিজেও একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানি করা হচ্ছে।
তিনি প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের উৎস ও প্রমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে অভিযোগ মিথ্যা হলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার দায় সংশ্লিষ্টদের নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদক গাংনী