নজরুল বর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
এরপর নজরুল বিষয়ক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চা এবং তাঁর লেখা অসংখ্য কবিতা, কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাসসহ বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘নজরুল আমাদের জাতীয় কবি। যা আমরা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। বিগত ১৫-১৭ বছরে নজরুলকে নিয়ে এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠান আমরা দেখিনি। এমনকি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী কোন দিক থেকে পার হয়ে যেত, তা শিক্ষার্থীরা বুঝতেই পারত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নজরুল আমাদের স্বাধীনতার মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন। তাঁর লেখা কবিতা ও গান আমাদের অনুপ্রাণিত করত। তাঁর কবিতা ও গান ছোট থেকে বড় সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমান সরকার নজরুলকে স্মরণ ও বরণ করার লক্ষ্যে নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত প্রতি মাসে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে আমরা কাজী নজরুলকে স্মরণ করব। একইসঙ্গে আমাদেরকে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিমনা ও উদারমনা হতে হবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও আমাদের সে দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২ তারিখ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমরা একটি আয়োজন করতে চলেছি। সেখানে নজরুলের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।’ নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নজরুল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার একজন প্রতীক। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রায় ৪ হাজার গান রচনা করেছেন। তিনি যে সাম্যবাদ ও শ্রেণি বৈষম্যবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, আমাদেরকে সেই শ্রেণি বৈষম্যবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন নজরুলবর্ষকে সামনে এনেছেন এবং সারা বাংলাদেশে কেন এটা প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে এবং আমাদের কী করণীয়, এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জেলা প্রশাসক চুয়াডাঙ্গাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন এবং তাঁর ভূমিকায় আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসী অনেক সন্তুষ্ট।’
উপস্থিত কালচারাল অফিসার ও শিক্ষকদের উদ্দেশে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নজরুল সমগ্র আছে। তাই আমাদের উচিত সেটা চর্চা করানো এবং নজরুল যে গুণে গুণান্বিত ছিল, সেগুলো তুলে ধরা। তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, তাঁর শিক্ষা, রাজনীতিসহ সকল কিছু আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে আনতে হবে। তারা যেন নজরুল সম্বন্ধে জানে, তাঁকে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করে এবং তাদেরকে নজরুলের মতো হওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে উদ্যোগ নেবেন এবং আপনাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমাদেরকে জানাবেন। আমরা আপনার পাশে থেকে তা পূরণের চেষ্টা করব।’ সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহ প্রমুখ।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ^াসসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা অসংখ্য গান ও কবিতার ওপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক