মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় নানা আলোচনা

গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট-পোস্টার লাগানোর প্রস্তাব
  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৯-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় নানা আলোচনা

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (লিগ্যাল এইড) কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল এইড হেল্প ডেস্ক চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে লিফলেট ও পোস্টার স্থাপনের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।


প্রত্যন্ত এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যাতে সহজে এবং বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পান, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম।


সভায় শুরুতে লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন করা হয়। এরপর গত ২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দাখিল করা ৯৬টি আবেদনের বিষয়ে সদস্যদের অবগত করা হয় এবং এসব আবেদন নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হয়। একই সময়ে প্যানেল আইনজীবীদের জমা দেওয়া ৩০টি বিল সভায় উপস্থাপন করা হলে কোনো আপত্তি না থাকায় সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অনেক সময় সরকারি বিনামূল্যের আইনগত সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে জানেন না। এ কারণে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়েও এ কার্যক্রমের প্রচার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।


সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের বিনামূল্যের আইনগত সহায়তা যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই লিগ্যাল এইড কমিটির মূল লক্ষ্য। কোনো মানুষ যেন অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যদের আরও সক্রিয়, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যত বেশি সচেতনতা তৈরি হবে, তত বেশি মানুষ এই সেবার আওতায় আসবেন। তাই শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারণা নয়, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে এ সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।


সভায় অংশ নেওয়া প্যানেল আইনজীবীরা জানান, চুয়াডাঙ্গায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম বর্তমানে ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যাদের সত্যিকার অর্থে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রয়োজন, তারা এ সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক মানুষ এখন লিগ্যাল এইডের বিষয়ে জানতে পারছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা নিতে আসছেন।


প্যানেল আইনজীবীরা আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিরা এতটাই দরিদ্র ও অসহায় যে, আদালতে আসা-যাওয়ার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক আইনজীবী নিজেদের পকেট থেকে তাদের যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকেন। এতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়ছে বলেও তারা জানান।


সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, লিগ্যাল এইড বর্তমানে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য একটি আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। যেসব মানুষের মামলা পরিচালনা বা আইনি জটিলতা মোকাবিলা করার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের জন্য সরকারি এই বিনামূল্যের আইনগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আদালত প্রাঙ্গণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিগ্যাল এইডের সেবাসমূহ সম্পর্কে লিফলেট ও পোস্টার স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ আরও সহজে বিষয়টি জানতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে নির্দিষ্ট বক্স বা নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম, সেবার ধরন ও যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরার প্রস্তাব দেন তিনি।


তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমের ব্যাপক প্রচার করা গেলে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ, নারী, শিশু, প্রবীণ ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এ সেবা গ্রহণে আরও উৎসাহিত হবেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোকে সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিত প্রচার কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।


সভায় এনজিও প্রতিনিধিরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করছেন। এসব প্রচারণার ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ সরকারি বিনামূল্যের আইনগত সহায়তা সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সেবা গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন।


জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও লিগ্যাল এইডের প্রচারণা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিগ্যাল এইড হেল্প ডেস্ক স্থাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে নিয়মিত ও ব্যাপক প্রচারণা চালানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। এতে অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে লিগ্যাল এইডের সেবা ও সুযোগ-সুবিধার তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মত দেন তারা।
সভা পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মোরশেদ আলম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক সৈয়দ হবিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার এ এস এম আব্দুর রউফ শিবলু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. সাজিদ হাসান, ইয়াসমিন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম, বিশেষ পিপি এম. এম. শাহাজান মুকুল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সিনিয়র সাংবাদিক মানিক আকবরসহ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যবৃন্দ।



কমেন্ট বক্স
notebook

চাচাতো ভাইয়ের দায়ের কো পে পা বিচ্ছিন্ন কৃষকের