দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গার এক অসহায় পরিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলমের সহযোগিতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘরে বসবাস করার সুযোগ পেয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য, গ্রামপুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অসহায় আমির হোসেন ও তার স্ত্রীর হাতে ঘরটি তুলে দেন ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। অসহায় দম্পতি আমির হোসেন ও তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন পাকা ঘরে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে খুশিতে আত্মহারা।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ আমির হোসেন ও তার স্ত্রী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভূমিহীনপাড়ার মৃত রহিম বকশোর ছেলে সোবহান আলীর বাড়ির সামনে একটি ছাগল ঘরের পাশে জরাজীর্ণ একটি ঘরে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বসবাস করে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। তাদের কষ্টের জীবনযাপনের বিষয়টি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় জনসাধারণ আমির হোসেনের মানবেতর জীবনযাপন দেখে তার বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করতে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলমের নিকট স্মারকলিপি দেন।
এমন মানবতার কথা চিন্তা করে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে নির্দেশনা দেন ভূমিহীনপাড়ায় কোনো ঘর খালি আছে কিনা, যেখানে কেউ বসবাস করে না এমন ঘর আছে কি না খোঁজ নেন। ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্ধান পান ভূমিহীনপাড়ায় একটি ঘর তৈরি হওয়ার পর থেকেই সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সেখানে কেউ বসবাস করে না। বর্তমানে ঘরটি তালাবদ্ধ রয়েছে। যাচাই করে ওখানকার বসবাসকারী বাসিন্দাদের সাথে কথাও বলে নিশ্চিত হন। ঘরটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই কেউ বসবাস করেনি সেখানে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলমের নির্দেশনায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অসহায় আমির হোসেন ও তার স্ত্রীর হাতে ঘরটি তুলে দেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন এত বছর পর সত্যিকারের ভালো একটা কাজ করেছে। অসহায় একটি পরিবারকে ঘর বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরাও খুশি। যার ঘর নেই, ভূমিহীন সেই ঘরটা পেয়েছে। এমন উদ্যোগে উপজেলাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন।
ভূমি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘরটি বাঘাডাঙ্গার ছয়ফল নামের এক ব্যক্তির নামে ঘরটি বরাদ্দ ছিল। ঘরটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই তিনি এখানে কোনোদিন বসবাস করেননি। তার বাঘাডাঙ্গায় জমি-জায়গা-ঘর সবই রয়েছে। দীর্ঘবছর পড়ে থাকার কারণে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম স্যারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ঘরটি অসহায় আমির হোসেনকে দেওয়া হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম বলেন, সরকারি বরাদ্দ ঘর কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঘর দখল করার অধিকার কারও নেই। তাই এমন অসহায় পরিবারের নিকট ঘর দিতে পেরে আমারও অনেক ভালো লাগছে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা