মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৭ দিনে ভর্তি ৩৪২ জন

শয্যা সংকটে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে অনেক শিশু
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৮-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৭ দিনে ভর্তি ৩৪২ জন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। ২২ শয্যার এই ওয়ার্ডে কোনো কোনো দিনে ৬০ জনের বেশি শিশু ভর্তি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যাসংকট। জায়গা না পেয়ে অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।


হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্ট মাসের ১৭ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত সাত দিনে শিশু ওয়ার্ডে মোট ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ আগস্ট ৫২ জন, ১৮ আগস্ট ৫৫ জন, ১৯ আগস্ট ৫৪ জন, ২০ আগস্ট ৫৩ জন, ২১ আগস্ট ৩৭ জন, ২২ আগস্ট ৫৬ জন এবং ২৩ আগস্ট ৩৫ জন শিশু ভর্তি হয়। অর্থাৎ সাত দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে জন্ডিস, নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা বাড়ায় শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, গরম বেশি পড়ায় শিশুরা ঘেমে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে গরমের কারণে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। রোগীর তুলনায় জনবলও খুবই কম। ফলে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে অনেকটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন বলেন, জন্ডিস, নিউমোনিয়া, ঠান্ডা-কাঁশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। গত কয়েকদিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।


হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু আলিফের মা বলেন, কয়েকদিন ধরে তাঁর ছেলের জ্বর। কোনোভাবেই জ্বর সারছিল না। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকায় বেড না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। শিশু মিমের নানী আফরোজা বেগম বলেন, তাঁর নাতনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় সাত দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগীর প্রচণ্ড চাপ। তবে চিকিৎসার পর এখন তাঁর নাতনি আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ হয়েছে।


হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ২২টি। এর বিপরীতে কোনো কোনো দিনে ৬০ জনের বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র দুজন স্টাফ নার্স ও ইন্টার্নশিপে থাকা চারজন নার্স দিয়ে এতসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শয্যাসংকটের কারণে বেডের পাশাপাশি ওয়ার্ডের মেঝেতেও শিশু ও তাদের স্বজনদের অবস্থান করতে হচ্ছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে শয্যা ও জনবল বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীদের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সহসভাপতি আ.মান্নান গ্রেপ্তার