আলমডাঙ্গায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটায় উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের নাগদাহ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে নাগদাহ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলা দেখতে মাঠে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী দর্শক। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় পর্যায়ে এমন ফুটবল আয়োজন তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি করবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা। উদ্বোধনী ম্যাচে মোকামতলা স্পোটিং ক্লাবের মুখোমুখি হয় চাঁদপুর একাদশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চাঁদপুর একাদশের খেলোয়াড়েরা। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে মোকামতলা স্পোটিং ক্লাবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জয় তুলে নেয় চাঁদপুর একাদশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ গঠনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। মাঠে যে তরুণ সময় কাটায়, সে মাদক, সন্ত্রাস ও নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার সুযোগ পায়। তাই তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণের পাশাপাশি তরুণ সমাজের বিকাশ ও খেলাধুলার গুরুত্বকে মূল্য দিয়েছেন। তার স্মৃতিকে ধারণ করে এমন একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে মেধাবী ও কর্মঠ তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ যুবসমাজ প্রয়োজন। সে কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বের দর্শনে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ক্রীড়া, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ প্রাণ ফিরে পাক। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে মাঠে খেলুক, প্রতিযোগিতা করুক, নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করুক। খেলাধুলার মধ্যদিয়েই নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষা তৈরি হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেই হবে না, খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি টুর্নামেন্টের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফুটবল আমাদের গ্রামবাংলার প্রাণের খেলা। এই খেলার মাঠে আবার দর্শকের ঢল নামুক, তরুণদের উচ্ছ্বাস ফিরে আসুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রতিযোগিতা হবে মাঠে, কিন্তু পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট থাকবে এটাই খেলাধুলার মূল শিক্ষা। তিনি টুর্নামেন্টের সাফল্য কামনা করে অংশগ্রহণকারী সব দলের খেলোয়াড়দের সুন্দর ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মখলেছুর রহমান জোয়ার্দার কমল, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আইলহাঁস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বিশ^াস, সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব, নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম, সিনিয়র সহসভাপতি ওহিম উদ্দীন, আইলহাঁস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, আলমডাঙ্গা ক্রীড়া সংস্থার মামুনুর রশীদ মন্ডল, নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হ্যাবা, আইলহাঁস ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আজিজ আহমেদ সুজন, মোমিনপুরইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম ও যুবদল নেতা আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকেরা জানান, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন ফুটবল দল অংশ নেবে। মাঠে দর্শকদের উপস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক