শনিবার, ২২ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিভিন্ন বিলে জাল-ফাঁদ, বিপন্ন পাখির নিরাপদ আশ্রয়

কুতুবপুরে প্রতিদিন পাখি শিকারের অভিযোগ
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৮-২০২৬ ইং
বিভিন্ন বিলে জাল-ফাঁদ, বিপন্ন পাখির নিরাপদ আশ্রয়

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বিলের মাঠে নির্বিচারে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিনই বিলের বিভিন্ন স্থানে জাল ও নানা ধরনের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করা হচ্ছে। কোনো কোনো দিন সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ জন পর্যন্ত শিকারির সমাগম হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কুতুবপুর, তিয়রবিলা, দৌলতপুর, হিঙ্গারপাড়া, বরিশখালিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে বিলের মাঠে জাল ও ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করছেন। এতে দেশীয় পাখির পাশাপাশি শীত মৌসুমে এ এলাকায় আসা অতিথি পাখিও শিকারের ঝুঁকিতে পড়ছে। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিলের বিভিন্ন অংশে পাখি ধরার জন্য জাল ও ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে। শিকারিরা দীর্ঘ সময় ধরে এসব স্থানে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাখি শিকার চলায় বিষয়টি অনেকটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে কেটের বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সোয়াদ হাসান ফাইন বলেন, ‘প্রতিদিন মাঠে এত মানুষ জাল পেতে পাখি ধরছে। বিষয়টি এখন আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। প্রশাসন সরেজমিনে এসে দেখলে প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারবে। আমরা চাই দ্রুত পাখি শিকার বন্ধ করা হোক।’


কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এভাবে নিয়মিত পাখি শিকার চলতে থাকলে কয়েক বছর পর এলাকায় পাখি দেখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।’


বাংলাদেশের বিভিন্ন বিল, হাওর, নদী ও জলাশয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এর মধ্যে পাতি সরালি, গার্গেনি, খয়রা হাঁস, বালিহাঁস, লালশির, নীলশির, চখাচখি, পিয়ং হাঁস, পাতি তিলিহাঁস, বড় তিলিহাঁস, কমন কুট, জলময়ূর, কাদাখোঁচা, বাটান, পানচিল, গাংচিল, কালেম, হট্টিটি, জলপিপিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে।


এসব অতিথি পাখি সাধারণত নিরাপদ জলাশয় ও খাদ্যের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসে। কিন্তু নির্বিচারে জাল ও ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করা হলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশসচেতনরা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিন শিকার কমে গেলেও পরে আবার আগের মতোই শুরু হয় বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কিছু শিকারি বিভিন্নভাবে অভিযানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ পান। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


সচেতন মহলের মতে, পাখি শিকার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়ও জড়িত। তাই বিচ্ছিন্ন অভিযানের পাশাপাশি বিল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিকারে ব্যবহৃত জাল, ফাঁদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।



কমেন্ট বক্স
notebook

বিভিন্ন বিলে জাল-ফাঁদ, বিপন্ন পাখির নিরাপদ আশ্রয়