চুয়াডাঙ্গায় অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের হাতিকাটা বালিয়াপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের একটি চারতলা ভবনের বেজমেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল শুক্রবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোতে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ পাওয়া গেছে। এসব ফোনে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত আরও কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব (পুকুরপাড়া) গ্রামের শেখ কাবিল উদ্দিনের ছেলে ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (২০), একই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ (২৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়ার নাজের আলীর ছেলে জুয়েল রানা (২৬), শান্তিপাড়ার আলী কদরের ছেলে রিফাত মুন্সি (১৯), হাতিকাটা গ্রামের মৃত আলীহিম জোয়ার্দ্দারের ছেলে ফরহাদ জোয়ার্দ্দার (২৯), একই গ্রামের আব্দুর রহমান জোয়ার্দ্দারের ছেলে সাদ জোয়ার্দ্দার আলভী (২৩), মৃত মুস্তাফিজুর রহমানের ছেলে খালিকুর রহমান বাঁধন (২৪), আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে মাশরাফি জোয়াদ্দার নাফি (১৯) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের সাগর আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম রকি (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের আবু সাঈদ ও জুনায়েদকে হাতিকাটা বালিয়াপাড়া গ্রামে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের একটি চারতলা ভবনের বেজমেন্টে আটকে রেখে মারধর এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় বেজমেন্ট থেকে ওই দুই যুবকসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, হাতিকাটা বালিয়াপাড়া গ্রামের একটি ভবনের বেজমেন্টে অনলাইন জুয়া খেলার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে চুয়াডাঙ্গার সাতজন ও মেহেরপুরের দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোতে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ পাওয়া গেছে। এসব ফোনে আরও কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেহেরপুর থেকে আসা দুই যুবক অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সিম নিয়ে এসেছিলেন। পরে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে তাদের সঙ্গে অন্যদের বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় আটক ৯ জনের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার মামলার পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক