লাইসেন্স নবায়ন ছাড়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই বছরের পর বছর চিকিৎসা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের 'হেলথ কেয়ার হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার'। বাংলাদেশ মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য হালনাগাদ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, প্রতিষ্ঠানটি কোনো আইনের তোয়াক্কা করছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বারবার কারণ দর্শানো ও সতর্কবার্তা প্রদান করা হলেও কার্যকর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি পরিদর্শক দল প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তকালে দেখতে পাওয়া যায়, কোনো নিবন্ধিত বা সনদপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনিশিয়ান ছাড়াই নন-টেকনোলোজিস্ট দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পরীক্ষার কাজ করানো হচ্ছে। পরিদর্শনকালীন সময়েও একজন নন-টেকনোলোজিস্টকে দিয়ে ৯টি রক্তের রিপোর্ট তৈরি করা হয় এবং অপর একটি রিপোর্ট তৈরির কাজ চলমান অবস্থায় পাওয়া যায়। সঠিক ডায়াগনস্টিক টেকনিশিয়ান না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতারা ভুল রিপোর্ট পাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রদত্ত দাপ্তরিক পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। পূর্বে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সরকারি বিধিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে কেন্দ্রটি পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পরিদর্শনের দিনই ব্যবস্থাপককে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিপন্থী কার্যক্রমের জন্য কোনো সিলগালা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা পরিচালনা করা হয়নি।
নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে হেলথ কেয়ার হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম লাল্টু বলেন, "খোঁজ নেন, চুয়াডাঙ্গার অনেক প্রতিষ্ঠানেই লাইসেন্স নেই।"
তার এমন বক্তব্যে স্থানীয় রোগী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগ নিয়েই এমন অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অবিলম্বে এই অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ বলেন, 'উক্ত প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা এই মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছি। এই মাসের ভিতর যদি সমস্যাগুলোর সমাধান না হয় তবে আমরা ক্লিনিক বন্ধ করে দেবো।'
নিজস্ব প্রতিবেদক