মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে কৃষক-শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীরা

চাহিদার তুলনায় ২১ মেগাওয়াট ঘাটতি, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা
  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৮-২০২৬ ইং
মেহেরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে কৃষক-শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীরা

মেহেরপুরে একদিকে তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। ‎‎শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামের অনেক এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কারখানার মালিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে এই দুর্ভোগ কবে কাটবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।


মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা- এই দুই জেলা নিয়ে গঠিত সমিতির আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দামুড়হুদা এবং মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এই সমিতির অধীনে দুটি গ্রিড (চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া) এবং ১২টি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬০০ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সমিতির বর্তমান পিক চাহিদা ১৩৭ মেগাওয়াট।


‎তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ‎অফ-পিক আওয়ার (রাত ১২টা থেকে বিকেল ৫টা) চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট (ঘাটতি ১৫ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ২৭%)। পিক আওয়ার (সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা) চাহিদা ৬২ মেগাওয়াট হলেও পাওয়া যাচ্ছে ৪১ মেগাওয়াট (ঘাটতি ২১ মেগাওয়াট, লোডশেডিং ৩০ থেকে ৩৪%)।


‎দাপ্তরিকভাবে ১৫ থেকে ২১ মেগাওয়াট ঘাটতির কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহে রয়েছে বিস্তর বৈষম্য। শহরের তুলনায় গ্রামে চার ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক ও শিক্ষার্থীরা।


কৃষক ও সেচ সংকট:

মেহেরপুরের আকাশে প্রায় এক মাস ধরে বৃষ্টি না থাকায় প্রখর রোদে মাঠের ফসল পুড়ছে। আমন ধান রোপণের এই মৌসুমে প্রতিনিয়ত জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। সদর উপজেলার ঝাওবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মুন্তাজ আলী জানান, এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে গেলে ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ চলে যায় এবং দেরিতে আসে। এতে বিদ্যুৎসহ খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  


‎শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত:

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ার টেবিলে বসতে কষ্ট হচ্ছে পরীক্ষার্থী সিমা আক্তার ও কলেজ শিক্ষার্থী নুসরাত জামানের। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সিলেবাস শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা জানান। ‎গাংনীর সাহারবাটী বাজারের ওয়েল্ডিং ব্যবসায়ী বিষু কর্মকার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা (৭০০-১০০০ টাকা) পরিশোধ করতে হচ্ছে অথচ কাজ করতে পারছেন না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।


মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলায় ৪টি সরকারি হাসপাতাল এবং প্রায় অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ হাসপাতালেই কোনো জেনারেটর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাচ্ছে।


মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) স্বদেশ কুমার ঘোষ জানান, চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৪% লোডশেডিং হচ্ছে। শহরের দিকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিরসনে গত ২৮ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হলেও এখনও সুরাহা মেলেনি। কবে নাগাদ সমাধান হবে, তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী বলেন, মেহেরপুরের সকল এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সচল রাখা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সমস্যা দূর হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

মেহেরপুরে ‘গানে গানে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা