চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ওয়েভ ট্রেড ট্রেনিং সেন্টারে তিন মাস মেয়াদী আবাসিক চারটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্সের ৪র্থ ব্যাচের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অর্থায়ন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন ‘ঝশরষষং ভড়ৎ ওহফঁংঃৎু ঈড়সঢ়বঃরঃরাবহবংং ধহফ ওহহড়াধঃরড়হ (ঝওঈওচ)’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বিভাগের উপ-পরিচালক জহির রায়হানের সভাপতিত্বে এবং প্রকল্পের জব প্লেসমেন্ট অফিসার শফিক আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদুল কাওনাইন টিলু, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সাধারণ পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব।
স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের ফোকাল পার্সন আব্দুস সালাম বলেন, আধুনিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অন্তত ৬৫ শতাংশের স্ব-কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করাই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন।
তিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থেকে প্রশিক্ষণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পিকেএসএফ ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর এ ধরনের প্রশিক্ষণে আরও বেশি প্রান্তিক যুব-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন।
এ ব্যাচে মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ফ্যাশন গার্মেন্টস এবং ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স-এই চারটি ট্রেডে মোট ১০০ জন বেকার নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দক্ষতার ভিত্তিতে স্ব-কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ট্রেড ল্যাব পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণের পরিবেশ ও সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দর্শনা অফিস