ঝিনাইদহে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বাজার কিছুটা কমলেও স্বস্তি ফেরেনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান এবং সামগ্রিক চড়া মূল্যের কারণে বাজার করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
এদিকে সবজির বাজার সামান্য কমতির দিকে হলেও মাছের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে; রুই, কাতলা, মৃগেল থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তের ভরসা তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দামই এখন নাগালের বাইরে। গতকাল শনিবার ঝিনাইদহ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫-২০ দিন আগের আকাশছোঁয়া দাম থেকে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা নেমে এসেছে। তবে পাইকারি কেনা দামের চেয়ে খুচরা বিক্রি দামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য তফাৎ।
বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ পাইকারি ২৪০ টাকায় কিনে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকা, পটল ৪৭ টাকায় কিনে ৬০ টাকা, উচ্ছে ৮৫ টাকায় কিনে ১০০ টাকা, বরবটি ৬৮ টাকায় কিনে ৮০ টাকা এবং গাজর ১২০ টাকায় কিনে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভেন্ডি ৩৫ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা (উশি) ৪০ টাকায় কিনে ৫০ টাকা, মুলো ৪৫ টাকায় কিনে ৬০ টাকা এবং কচু ৪০ টাকায় কিনে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে পাতা কপি ৬৫ টাকায় কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পালং শাক প্রতি আঁটি ১৭ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস কদু ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ টাকায় কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আলুর কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই দরও চরম অসহনীয় হয়ে উঠেছে। ঝিনাইদহ শহরের **ব্যাপারীপাড়ার** বাসিন্দা তাহুরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, "তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম দু-এক টাকা কমলেও আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই দামে বাজার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যে আয়, তাতে সংসার চালানোই দায়, তার ওপর তরকারির এই দাম।"
একই সুর উপ-শহরপাড়ার বেবি খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, "কাগজে-কলমে দাম কমার কথা শুনলেও বাজারে এসে দেখি উল্টো চিত্র। এক কেজি তরকারি কিনতে গেলে অন্য তরকারি আর কেনা হচ্ছে না। মাছের বাজারে তো যাওয়ারই উপায় নেই।"
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তরকারি বিক্রেতা রমজান আলী ও আবুল কালাম জানান, অতিবৃষ্টি ও অপ্রতুল সরবরাহের কারণে ১৫-২০ দিন আগে দাম খুব বেশি ছিল। এখন সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে। তবে পাইকারি বাজার থেকে পরিবহন খরচ ও অপচয় হিসাব করেই খুচরা দর নির্ধারণ করতে হয়।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।"
কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকেও মিলেছে ইতিবাচক বার্তা। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে পুরোদমে উঠবে। তখন তরিতরকারির বাজার পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।"
ঝিনাইদহ অফিস