রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাড়াহুড়া নয়

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৭-২০২৬ ইং
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাড়াহুড়া নয়

'মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার' বিষয়ক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইন মন্ত্রী জানান, 'প্রেসিডেন্টের মামলা নিয়ে এখনই মন্তব্য নয়।' আইন মন্ত্রী বলেন, 'আমরা বলতে পারি, গত কয়েক মাসের সরকারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচার-বহির্ভূত হত্যা হত্যাকাণ্ড) প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসছে। আর এনফোর্স ডিসএপিয়ারেন্সের (গুম) ব্যাপারে একটা রিপোর্টেড কেস যখন এসেছে, আমরা সেটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য আমি ইন্টারনালি বলেছি।' তিনি আরো বলেন, 'জজ সাহেব যখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি ভালো জজ সাহেবনিয়োগ হয়। ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব।' রাজনৈতিক প্রতিহিংসা-মূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা-মূলক সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট অধিবেশনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, বিশেষ অধিবেশন ডেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং সেটা আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।' রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সাইকেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'আমাদের প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মনে করছি, আমরা আস্তে আস্তে সব রকম সংস্কারের দিকেই এগোব। কিন্তু এ জন্য আমাদের একটু সময় দিতে হবে।' পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী বলেন, 'সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং, বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোনো পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি।' তিনি বলেন, 'যেহেতু সাংবিধানিকভাবেই ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা। তাই আশা করি, সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।' দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী বলেন, 'সেটা সময়ই বলে দেবে।' মানবাধিকার সংগঠনের 'অধিকার' সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন 'অধিকার'-এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। অধিকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। দলীয় ফোরামের বৈঠকে ঠিক হবে নতুন প্রেসিডেন্ট: মির্জা ফখরুল দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'এ বিষয়ে বিএনপি সভা করবে, স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং হবে। আমাদের তো কোনো মিটিংই হয়নি এখনো। বৈঠকের পর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।' পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবেআপনার নাম শোনা যাচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্লিজ, সংবিধান অনুযায়ী যেসব নিয়ম আছে, সেটা মেনে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে চূড়ান্ত। দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।' উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপৃল দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, তার পাচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপূলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাড়িয়েছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হলে নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তাই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত হবেন। মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা-বহুল সময়। তার মেয়াদকালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ পার্লামেন্ট ইলেকশন। এই সময়ের মধ্যে তিনি শেখ হাসিনাসহ তিন জন সরকার প্রধানকে শপথ বাক্য পাঠ করান, যেটা দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।



কমেন্ট বক্স
notebook

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাড়াহুড়া নয়