শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সরোজগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২৫

নারীর হাত বিচ্ছিন্ন, গুরুতর আহতদের ঢাকা ও রাজশাহীতে রেফার্ড
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৭-২০২৬ ইং
সরোজগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২৫

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের একটি কড়ই গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি বলে হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সরোজগঞ্জ বাজারের অদূরে ছাদেমাননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মেহেরপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় ছাদেমাননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভ্যানে করে স্কুলে যাচ্ছিল। বাসটি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় কয়েকজন স্কুলছাত্রীও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দ্রুতগতিতে চলা বাসটি সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি কড়ই গাছে ধাক্কা লেগে সড়কের ওপর উল্টে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসের ভেতরে থাকা অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হন। কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকে পড়লেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করা হয়।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার বুলবুলি (৪২)-এর ডান হাত কাঁধ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আশাদুল (৩৮)-এর বুকের হাড় ভেঙে গেছে। মাদারীপুর জেলার মিজান (৫০) মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।


আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের রাজিব (৩০), সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক (৫০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের পঞ্চমী বেগম (৬০), সালাম (৬৫), মিজানুর (৫০) ও শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), পাঁচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদর পিটিআইয়ের কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি (৪০), শরীয়তপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)সহ আরও অনেকে।


আহত ছামিউল বলেন, ‘রয়েল পরিবহনের বাসটি একটি পাখিভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের প্রায় সবাই আহত হন।’ আহত যাত্রী ফারজানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি বাবার বাড়ি থেকে শ^শুরবাড়ি যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। আমার কোলে চার মাসের বাচ্চা ছিল। আমরা একই পরিবারের আটজন বাসে ছিলাম। সবাই কমবেশি আহত হলেও আমার শাশুড়ির অবস্থা বেশি গুরুতর।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রেফার্ড করা হচ্ছে। অন্যদের চিকিৎসাও চলমান রয়েছে।’


চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের বাসটি সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয় এবং বাসটি পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাসের চালক ও হেল্পারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।’


এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।


এসময় শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আহতদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি হবে না। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত