বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৭-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সভাপতির স্বাক্ষর জাল, স্কুলের ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। রেজুলেশন ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি এবং মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।


১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯০ সালে জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুস সালামের স্বাক্ষর জাল করে অগ্রণী ব্যাংকের কন্যাদহ শাখা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন কমিটি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়া এবং মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাঁর বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এর আগেও বিদ্যালয়ের একাধিক গাছ কেটে সেই টাকা পকেটে পুরেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমদাদুল হক জানান, চাকরিতে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে হাবিবুর নামের এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে চাকরি না পেয়ে এবং টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক আঘাতে ওই প্রার্থীর বাবা স্ট্রোক করে মারা যান। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রয়াত সভাপতি পরিমল সাধুখাঁর স্বাক্ষর জাল করে অর্থের বিনিময়ে নিজের এক আত্মীয়কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক আমার স্বাক্ষর জাল করা ছাড়াও বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারী কায়দায় অনিয়ম করেছেন। কেনাকাটা বা হিসাব সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অর্থ কমিটির সাথে পরামর্শ করেন না। প্রধান শিক্ষক পদে টিকতে তিনি বিগত দিনে সরকারি দলের মিছিল-মিটিংয়েও সক্রিয় ছিলেন। তাঁর দুর্নীতি তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’


অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাহাবুদ্দিন জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘স্বাক্ষর জালের ঘটনাটি পূর্বেই মীমাংসিত হয়ে গেছে। আর তৎকালীন সময়ে পদ বাঁচাতে রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হতে হয়েছিল।’ এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন জানান, ‘উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

কার্পাসডাঙ্গার কুতুবপুরে দোকানের তালা ভেঙে টিভি চুরি