জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী হাইস্কুল মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জীবননগর থানা-পুলিশের উদ্যোগে সর্বস্তরের জনসাধারণের সচেতনতায় মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে এই মাদক বিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদক সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। যারা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আন্তরিক, জেলা পুলিশ তাদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। তবে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এসপি আরও বলেন, মাদক কারবারি, মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবীদের সামারি ট্রায়েলের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আপনারা যেভাবে এগোচ্ছেন, আর বেশি দূরে নয় সমাজ থেকে, এই জেলা থেকে মাদক নির্মূল হবে ইনশাআল্লাহ, যদি আমরা সবাই সোচ্চার থাকি।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার বলেন, আর একটি বিষয় আমি বলতে চাই, মাদক সংশ্লিষ্ট যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেন নাই, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আপনাদের জায়গা কিন্তু ওই ভুট্টাখেতে, জঙ্গল, কারাগার কিন্বা এই জেলার বাইরে। এই জেলায় বসবাস করবেন আর মাদক ব্যবসা করবেন এটা অসম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশেষ অতিথি সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর সর্দার, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, জীবননগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, মিনাজুল ইসলাম, জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে মাদকের কুফল, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার গুরুত্ব এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে জীবননগর থানার কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ১৬ জন মাদকসেবী ও মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং ভবিষ্যতে মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আত্মসমর্পণকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে মাদকমুক্ত জীবনযাপন ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার শপথ গ্রহণ করানো হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদক