দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পে নতুন গতি ফিরছে। ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অধিগৃহীত জমির ওপর থাকা স্থাপনা অপসারণ ও ভাঙার কাজ শুরু করেছে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, স্থাপনা অপসারণ শেষ হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ওভারপাস নির্মাণের মূল কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাশের অধিগৃহীত জমিতে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকা এই প্রকল্পে স্থবিরতা কাটায় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে রেলবাজার ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় কাজ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল। এক বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নির্মাণাধীন এলাকায় পানি ও কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সওজ) সাদিকুর রহমান বলেন, 'ওভারপাস নির্মাণের জন্য আমরা সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেছি। অধিগৃহীত জমির ওপর যে স্থাপনাগুলো ছিল, সেগুলো অপসারণ ও ভাঙার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা দূর হলো। আমরা আশা করছি, স্থাপনা অপসারণ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ওভারপাসের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।'
সরেজমিনে কথা হয় কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছিল। এসময় পথচারী রাফিন বলেন, 'অনেকদিন ধরে ওভারপাসের কাজ আটকে আছে। বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা কাদায় ভরে যায়। হাঁটা তো দূরের কথা, মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন যদি আবার কাজ শুরু হয় এবং দ্রুত শেষ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।'
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজাদ বলেন, 'ওভারপাস নির্মাণের কারণে আমাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আজ স্থাপনা ভাঙার কাজ দেখে জানতে পারলাম আবার নির্মাণকাজ শুরু হবে। এতদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পটি এবার দ্রুত শেষ হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যও আগের মতো সচল হবে বলে আশা করছি।'
স্থানীয়দের মতে, চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার এলাকা শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিন এই রেলক্রসিং দিয়ে অসংখ্য যানবাহন ও মানুষ চলাচল করে। ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ওভারপাস নির্মাণ সম্পন্ন হলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং জেলার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক