বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে ওড়ানো হলো পূর্ণোন্নত পতাকা

জাতীয় পতাকা অবমাননা, সাংবাদিকদের সাথে ইনচার্জের রূঢ় আচরণ
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৭-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে ওড়ানো হলো পূর্ণোন্নত পতাকা

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের পবিত্রতা ও আইনি বিধান লঙ্ঘন করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রেখে পূর্ণোন্নত অবস্থায় উড়িয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পতাকাটি সম্পূর্ণ উত্তোলন করা অবস্থায় দেখা যায়। ‘বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে, যা জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননার শামিল।


জানা যায়, দেশের যেকোনো রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। অথচ চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। এই প্রতিবেদক সরেজমিনে এই আইনি লঙ্ঘনের চিত্র দেখতে পান এবং এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিনের রুমে যান।


তবে বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ বা আইনি ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে চরম অপেশাদার ও রূঢ় আচরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ। এ সময় অত্যন্ত রুক্ষ ভাষায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। রাষ্ট্রীয় শোকের বিষয়ে কিছুই জানি না।'


সরকারি পদে আসীন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখ থেকে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস সম্পর্কে এমন উদাসীন ও আইন অমান্যকারী বক্তব্য স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়ার পর ওই দপ্তরের একজন কর্মচারী তাড়াহুড়ো করে জাতীয় পতাকাটি অর্ধনমিত করেন।


তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পতাকা অর্ধনমিত করার ক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রীয় নিয়ম ও আইনি পদ্ধতি রয়েছে (প্রথমে পতাকাটি সম্পূর্ণ উত্তোলন করে এরপর নির্ধারিত দূরত্বে নামিয়ে অর্ধনমিত অবস্থায় আনা এবং নামানোর সময়েও পুনরায় পূর্ণোন্নত করে নামানো), তার কোনো বিধানই সেখানে প্রতিপালন করা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটিতে রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকার প্রতি চরম অবহেলা ও অসম্মান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


আইনজীবীদের মতে, ১৯থার ‘ঞযব ঘধঃরড়হধষ ঋষধম জঁষবং, ১৯৭২’ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জাতীয় পতাকার অবমাননা দণ্ডনীয় অপরাধ। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন আইন অমান্য করার ঘটনা ও দায়িত্বহীন আচরণ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।



কমেন্ট বক্স
notebook

সরোজগঞ্জ বাজারে লোভা স্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা