বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

৩০ বছরে প্রথমবার বন্ধ দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার

প্রাণপুরুষ আবু সুফিয়ানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া
  • আপলোড তারিখঃ ০৫-০৭-২০২৬ ইং
৩০ বছরে প্রথমবার বন্ধ দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার

দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরে এই প্রথম দিনের মতো বন্ধ থাকল দর্শনার ঐতিহ্যবাহী গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার (সিডিএল)। কারণ, আর নেই সেই মানুষটিÑযিনি নিজের শ্রম, ভালোবাসা ও ত্যাগ দিয়ে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রেখেছিলেন। গ্রন্থাগারের প্রাণপুরুষ আবু সুফিয়ানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দর্শনাজুড়ে।


গতকাল শনিবার সকালে গ্রন্থাগারে এসে অনেকেই তালাবদ্ধ দরজা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি ছুটি, ঈদ, রমজান কিংবা দুর্গাপূজাÑকোনো উপলক্ষেই গত তিন দশকে এই গ্রন্থাগার বন্ধ থাকেনি। কিন্তু আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো বন্ধ দেখা গেল প্রতিষ্ঠানটি।


জানা যায়, ১৯৮৬ সালের দিকে দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারের কার্যালয়ে গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয়। পরে তৎকালীন মেয়র আক্তারুল ইসলামের উদ্যোগে বর্তমান দর্শনা থানার সামনের স্থানে গ্রন্থাগারটি স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এখান থেকেই গণউন্নয়ন (সিডিএল)-এর কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে।


প্রতিষ্ঠানটির সূচনালগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বদরুল আলম ফিট্টু, প্রয়াত এ কে এম শহিদুল আলমসহ কয়েকজন সমাজসেবীর উদ্যোগে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে জহির রায়হান, বাবুল আক্তার ও নজরুল ইসলাম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ১৯৯৫ সাল থেকে আবু সুফিয়ান গ্রন্থাগারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
প্রথম দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও ২০০৫ সালের পর সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা এবং বইপ্রেমীদের সমর্থন নিয়ে আবু সুফিয়ান বিনা স্বার্থে গ্রন্থাগারটি চালিয়ে আসছিলেন।


দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারে পাঠকদের জন্য ছিল বাংলা সাহিত্য, রাজনীতি, আইন, সংবিধান, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জীবনীসহ বিভিন্ন বিষয়ের সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহ। পাঠকরা বিনামূল্যে বই নিয়ে পড়ে আবার ফেরত দেওয়ার সুযোগ পেতেন। প্রতিদিন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাও রাখা হতো। দর্শনা সরকারি কলেজ, দর্শনা বালিকা বিদ্যালয়, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে পড়াশোনা করতেন। অনেক পাঠক পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।


স্থানীয়দের মতে, গ্রন্থাগারটি শুধু বই পড়ার স্থান ছিল না; এটি ছিল দর্শনার একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে প্রবাসী ও কর্মজীবী মানুষ এখানে এসে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতেন।
গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবু সুফিয়ান ইন্তেকাল করেন। পরে দর্শনার মোবারকপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি সাহিত্যচর্চা, কবিতা আবৃত্তি, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য এলাকাবাসীর কাছে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে দেশপ্রেম, প্রতিবাদ ও মানবিকতার বিষয়গুলো বারবার উঠে আসত।


আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর পর এখন প্রশ্ন উঠেছেÑদর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারের দায়িত্ব কে নেবেন? এলাকার সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি যেন তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আগের মতোই পাঠকসেবায় অব্যাহত থাকে।



কমেন্ট বক্স
notebook

ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩টি পুকুর বেদখল