জীবননগরে মাদক মামলার আসামি, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার বাড়িতে পুলিশ অভিযানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকনের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ধরনের অভিযানে না যাওয়ার জন্য ধমক দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জীবননগর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টুটুল তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে যশোর থানায় একটি মাদক মামলা (যশোরের কোতয়ালী থানার এফআইআর নং-১৬, তারিখ- ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৪; জি আর নং-৯৯২, ধারা- ৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৩৮/৪২ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮) এবং জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে (এফআইআর নং-১, জি আর নং-৬১/১২, তারিখ- ০২ জুলাই, ২০১২; সময়- ১৫.৪৫ ঘটিকা ধারা- ৭/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩); এজাহারে অভিযুক্ত চার্জশীট :-৬৫) একটি মামলা রয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় নেতা। সম্প্রতি তাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে দেখা গেছে।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে আনোয়ার হোসেন খান খোকনকে বলতে শোনা যায়, "আমি আপনাকে ফোন দিলাম। ওই যে, আমাদের কিছু ছেলে-পেলে আছে বখাটে, এসব ছেলে-পেলে নিয়ে টুটুলের বাসায় আপনি গিয়েছিলেন মনে হয় না কি? আইসি সাহেব সহ গিয়েছিলেন। যাক এসব ছেলে-পেলের প্ররোচনায় পড়বেন না। এগুলো করবেন না। সে আওয়ামী লীগ করে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ করলেই সে খারাপ তা তো নয়। কিন্তু আমাদের কিছু ছেলে-পেলে আছে, যারা ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। যারা প্রকৃত বদমাশ, তাদের ধরেন, এতে আমার আপত্তি নেই। আর যদি ওসি সাহেব গিয়ে থাকেন, বলেন, আমি দেখছি।"
টুটুল সম্পর্কে জানতে চাইলে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, "টুটুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে যশোরের একটি পক্ষের সঙ্গে ফেনসিডিলের টাকা নিয়ে তার বিরোধ হয়েছিল। এলাকায় তিনি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত।"
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, "টুটুলের বিরুদ্ধে যশোর থানায় একটি মাদক মামলা এবং জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, আওয়ামী লীগের সবাই তো খারাপ না। আমি পুলিশকে বলেছি, আওয়ামী লীগের যারা নিরীহ আছে তাদের হয়রানি না করতে। আর যার জন্য বলেছি, সে কোনো মাদক ব্যবসায়ী না। এ সময় তিনি কল রেকর্ডটিকে অবান্তর বলে দাবি করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক