সরকারি অনুমতি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই নিজস্ব জমিতে পুকুর পুনঃখনন ও সম্প্রসারণের কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন দর্শনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দীন লিটন। তার বিরুদ্ধে মাটি বিক্রি ও অবৈধ খননের যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দর্শনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিটন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। তাদের নিজস্ব জমিতে পেয়ারা, কমলা, ড্রাগন, আঙুর, আখ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক কুমড়া চাষ, মাছের পুকুর ও একটি মুরগির খামার পরিচালনা করছেন।
তিনি জানান, নিজস্ব জমিতে পুকুর পুনঃখননের আগে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্ত শেষে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে আইন অনুযায়ী অনুমতি প্রদান করেন।
তিনি আরও জানান, প্রথম দফায় ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নং-০৫.০৪.১৮৩১.৫-২০ এর মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে পুকুর পুনঃখননের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরায় তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৬ সালের ২১ মার্চ স্মারক নং-০৫.৪৪.১৮৩১.০০০.৯৬.০০৫.২০-৪৮৭ এর মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ (সংশোধিত-২০২৩) অনুযায়ী পুনরায় অনুমতি প্রদান করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে লিটনের দাবি, তিনি অনুমতিপত্রে বর্ণিত সব শর্ত মেনেই কাজ করছেন এবং কোনোভাবেই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি বা বালু উত্তোলন কিংবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সরকারি অনুমতিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে উঠে আসবে এবং বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে তার কাছে থাকা সব অনুমোদনপত্র ও কাগজপত্র যে কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত। যদি তার কোনো কাজ আইনের পরিপন্থী প্রমাণিত হয়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকারও তিনি সংরক্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝণ্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদুল ইসলাম লিংকন, দর্শনা থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াজেদুল হাসান টুটুল শাহ, সদস্যসচিব সাজেদুর রহমান মিলন মোল্লা, সোরোয়ার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান মোহন, সদস্য সিজার, আব্দুল হাকিম, ঝন্টু মেম্বার, সাকিব আল হাসানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
দর্শনা অফিস