চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামে একটি কথিত হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে জেলা পরিষদের ৩ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হয় না। অথচ বরাদ্দের অর্থে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আনিসা খাতুন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খাসপাড়া সরকারবাড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকায় ‘খাসপাড়া আদর্শ হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের সাহাজান আলী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। শুরুতে অন্য স্থানে থাকলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরে এটি নিজের জমিতে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েকটি বেঞ্চ ছাড়া তেমন কোনো অবকাঠামো নেই। সেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও দেখা যায়নি। পাঠদান চলারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সাহাজান আলী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিবন্ধন (রেজিস্টার) দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির নামে জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ এনে ব্যক্তিগত জায়গায় প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, অতীতে প্রতিষ্ঠানটির নামে বিভিন্ন এলাকায় চাল ও অনুদান সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝিনাইদহে সাহাজান আলী জনরোষের মুখে পড়েছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা জানান। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রকৌশলী আনিসা খাতুন বলেন, ‘গ্রামের একজনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। প্রকল্পটি অনেক আগে প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী বরাদ্দ অনুমোদন হয়। অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাহাজান আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি।