রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তি

মুক্তিপণের জন্য হত্যা করা হয় আলমডাঙ্গার রাফিজকে
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৬-২০২৬ ইং
প্রধান আসামি লাল্টু গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার, আদালতে স্বীকারোক্তি

১২ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়াকে (১৫) অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার আট দিন পর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরের অর্জুন খালের পাশ থেকে উদ্ধার হয় তার গলিত মরদেহ। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মামলার প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়াকে (৪১) । তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। লাল্টু মিয়া ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় দুটি হত্যা মামলা এবং এই ঘটনাসহ তিনটি হত্যা মামলার আসামি।


পুলিশ জানায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে রাফিজকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় অপহরণকারীরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। একই দিন রাত প্রায় ১১টার দিকে রাফিজের দাদি মোছা. আমেনা খাতুনের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা। ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাফিজের সঙ্গে কথা বলিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে তারা। ঘটনার পর ১০ জুন আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।


এরই মধ্যে ১২ জুন রাত পৌনে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে স্থানীয়রা মাথাবিহীন অর্ধগলিত দেহাবশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহাবশেষ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের কোমর থেকে নিচের অংশ পাওয়া যায়। মাথা ও দেহের উপরের অংশ না থাকায় এবং মরদেহের অধিকাংশ পচে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিহতের পরনে ছিল একটি জিন্স প্যান্ট।


এদিকে, ৫ জুন থেকে নিখোঁজ রাফিজের পরিবার দাবি করে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষটি তাদের স্বজনের। রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন জানান, অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তারা বারবার রাফিজের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও অপহরণকারীরা সেই সুযোগ দেয়নি। পরদিন ১৩ জুন সকালে দেহাবশেষটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত, আলামত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তিতে নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া গলিত দেহাবশেষটি নিখোঁজ কিশোর রাফিজ মিয়ারই।


চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) এবং আলমডাঙ্গা থানা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তিগত তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের একপর্যায়ে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রাম রেলস্টেশন-জামালপুর বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু পুলিশকে জানান, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে সহজেই বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা যাবেÑএমন পরিকল্পনা করেই তারা অপহরণের ছক কষেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ জুন সন্ধ্যায় ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলে করে রাফিজকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরে জনৈক মজিদের জমি সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে রাফিজের নিজের মোবাইল ফোন থেকেই পরিবারের সদস্যদের কাছে কল করে তার নির্যাতনের চিৎকার শোনানো হয় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।


কিন্তু পরিবার টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টুসহ অন্য আসামিরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে চলে যায়। হত্যার পরও সন্দেহ এড়াতে এবং টাকা আদায়ের আশায় একাধিকবার পরিবারের কাছে মুক্তিপণের দাবি অব্যাহত রাখে তারা। গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেখানো মতে পুলিশ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগরে রাস্তার কাজে ‘চাঁদা দাবি’ ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত