শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক সুধী সমাবেশে ড. সুরাতুজ্জামান

দেশের মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দিতেই এ পেনশন স্ক্রিম
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৬-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক সুধী সমাবেশে ড. সুরাতুজ্জামান

চুয়াডাঙ্গায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। পরে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সভার প্রধান অতিথি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি  বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। আমি চুয়াডাঙ্গার আলো বাতাসে বড় হয়েছি। এখানকার মাটি মানুষ আমার কাছে খুব প্রিয়। আমি এখানে সবসময় আসতে পারিনা, তবে আমার মন এখানে পড়ে থাকে। এখানে আমার বন্ধু বড় ভাই অনুজ অনেকেই আছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রায় ২৯ বছর সিভিল সার্ভিসে কাজ করেছি। তারপর বর্তমান সরকার আমাকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছে। আমার এ পথচলা বেশিদিন নয়, মাত্র ২ মাসের। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা এই পেনশন স্কিমের আওতায় থাকলেও এখন সকলেই এই সুবিধা পাবে। কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহিণীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাতে বহু মানুষ কাজের সন্ধানে আসে, এবং কাজ করে। তারা ঈদের সময় বাসায় চলে যায়। এই যে এত মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় এসে কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ অটো, কেউ ব্যবসা করে, কেউ চাকরি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছে ঢাকায়। তাদের ও তো বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। তারা যদি এই স্কিমের আওতায় আসে, তবে তারা একটি আর্থিক নিরাপত্তার ভেতরে থাকতে পারবে। আমরা চিন্তা করেছি জনবহুল স্থানগুলোতে এই সর্বজনীন পেনশনের ক্যাম্পেইন করব।’


ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এগুলো হলো- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা। এর মধ্যে প্রবাস স্কিম প্রবাসীদের জন্য, প্রগতি স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য, সুরক্ষা স্কিম স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য এবং সমতা স্কিম স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। যারা অত্যান্ত নিম্ন আয়ের, যাদের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার, তারা সমতা স্কিমের আওতায় আসবে। এখানে তারা ৫০০ টাকা জমা করলে সরকার অটোমেটিকলি আরও ৫০০ টাকা জমা করবে। শুধু এই সমতা স্কিমেই সরকার এই সাহায্যটা করবে।’


সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র, সহকারী কমিশনার দুলাল সরকার, সুব্রত দেবনাথ, ফাহাদ চৌধুরী, জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল আহমেদ, ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন