চুয়াডাঙ্গায় আত্মবিশ্বাসের প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের সৃষ্টিও হয়। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় আত্মবিশ্বাসের বাস্তবায়নে পিকেএসএফ-এর রেইজ প্রকল্পের আওতায় বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগেও আত্মিবিশ্বাস তিনটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে।
এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও আয় বাড়ানো। তবে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রশিক্ষণ না দিয়েই স্বাক্ষর করিয়ে নেবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সঠিক তথ্য না দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা মার্কেটিং অফিস চত্বরে আত্মবিশ্বাসের প্রশিক্ষণার্থীদের একটি হট্টগোল দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকজন ক্ষুদ্ধ প্রশিক্ষার্থী অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে গত ব্যাচ এবং বর্তমান ব্যাচের প্রশিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এই প্রতিবেদক একাধিকবার আত্মবিশ্বাস প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে প্রশিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করেন। তবে ৫৫ জনের তালিকা থাকা প্রশিক্ষণার্থীদের কথা বলে অন্তত ৮ জন এমন ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, যারা প্রশিক্ষণটি সম্পর্কে জানেনই না। একাধিক অসম্পূর্ণ মোবাইল নাম্বার আবার বেশ কিছু নাম্বার বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করাই সম্ভব হয়নি।
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রশিক্ষণটি ১৬ দিনের কথা বলা হলেও ১৬ দিন নেয়া হয়নি। মাত্র দুই দিন প্রশিক্ষণ এবং গতকাল বৃহস্পতিবার একদিন সমাপনি করা হয়েছে।
এদিকে, আত্মবিশ্বাস থেকে নেয়া তালিকায় গণমাধ্যমকর্মীদেরও মিসগাইড করা হয়েছে। তালিকায় দেয়া ৫৫ জনই অংশগ্রহণকারী প্রথমে বলা হলেও যখন ৫৫ জনের সবাইকে পাওয়া যায়নি জানানো হয়, তখন প্রকল্পের আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়কারী তৌহিদুজ্জামান পুনরায় বলছেন ভিন্ন কথা। এছাড়া একটি মাত্র তালিকা দিতে বারবার গণমাধ্যম কর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগও আছে।
তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘যদি ওয়াইফ না আসতে পারে, তাহলে হাজবেন্ড আসতে পারে। বা কেউ আসতে পারে। প্রথম দিন যে আসেন, আমরা তাকে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করি।’ ৫৫ জনের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণার্থী নিজেই তার নাম আছে, সেটি জানেন না। এ ধরনের কয়েকজন আমরা পেয়েছি জানালে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাচে ৪৭ জন তালিকা পাবেন। তবে তারা কারা, সেটি এখনি বলতে পারছি না। অনেকেই আসতে পারেনি, তাদেরকে পরের ব্যাচে আমরা নিয়ে নেব।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলৎদিয়াড়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাস থেকে একটি ঋণ নিয়েছিলাম। আত্মবিশ্বাস থেকে আমাদের জানানো হয়, ১৬ দিনের একটি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার এবং ট্রেনিং শেষে ৫ হাজার টাকা দেবে। এখান থেকে ব্যবসার ধারণা নিয়ে যাতে আমরা বাইরে ব্যবসা করতে পারি। কিন্তু প্রথম দিন তারা আমাদের গ্রাহকদের নিয়ে এসে ৫-৭টা ফলস কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে পর পর দুই দিন ট্রেনিং করিয়েছে। তারপর গ্যাপ রাখার পর আজকে বৃহস্পতিবার আমাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিলো, যদি ওপর লেভেল থেকে কল দেয়, তাহলে বলবেন ১৬ দিন ট্রেনিং ছিল, দুই দিন বাইরে ওয়ার্ক ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যায়নি। আজকে অল্প কিছুক্ষণের জন্য আমাদের বাইরে আনা হয়েছিল। আমরা আর কত দুর্নীতি দেখবো?’
নিজস্ব প্রতিবেদক