বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

সীমান্তে আটকা সম্পর্ক

পুশইনের চেষ্টায় ভারত, কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ
  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৬-২০২৬ ইং
সীমান্তে আটকা সম্পর্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। দুই দেশের মধ্যে কার্যক্রম চলে নাম-মাত্র। সম্পর্কের স্রোত অজানার পথে বয়ে চলে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অস্থিরতা নতুন রূপ লাভ করে। ভারত তখন ঢালাওভাবে পুশইনের পথ বেছে নেয়। দিনে-রাতে সমানতালে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেয়। তখন অবশ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচিত সরকারের ওপর জোর দেওয়া হয়। ছাব্বিশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। কিন্তু ভারত তার অবস্থান থেকে তেমন একটা সরেনি। তারা পুশইন, সীমান্তে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই


সীমান্তে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। তারা সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে উভয় পক্ষ থেকেই যখন ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তখন সীমান্তে ভারতের একপাক্ষিক কিছু কর্মকাণ্ড উদ্বেগ তৈরি করছে। তাদের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর নতুন করে অস্বস্তির ছায়া ফেলছে। ঈদুল আজহার ছুটির সুযোগে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বেশকিছু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া বা পুশইন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোল্ডিং সেন্টারে রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টির খবরও এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সংবেদনশীল সীমান্ত সংকট দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল আস্থার সংকটই তৈরি করছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পতাকা বৈঠক হলেও হয়নি সমাধান: গত সোমবার সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনে ১০ নারী-পুরুষ: সবশেষ খবর অনুযায়ী, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। প্রতিটা মুহূর্ত তাদের আতঙ্কে কাটছে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গত ৩১ মে গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে তা প্রতিহত করে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ১২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, সতর্ক বিজিবি: জানা গেছে, গত ৩০ মে সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকযোগে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য ভারত সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসা হয়। কয়েকটি গ্রুপ করে ১০-১২ জন মানুষকে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্তে নিয়ে আসে বিএসএফ। প্রথমে তারা বেনাপোলের সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতে আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়। যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তজুড়ে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করে রাখে। এদিকে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।


বিজিবি জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬ এর কাছে আট থেকে দশ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি। তবে বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছি, কিন্তু পতাকা বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। তারা স্বীকার করতে চাচ্ছে না যে, এদের পুশইন করা হয়েছে। অথচ সেই সময়কার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করছে বিএসএফ এদের ঠেলে দিয়েছে। তাছাড়া ভুক্তভোগীরাও জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করেছে। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।'


বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম খান বলেন, 'যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদেরকে হস্তান্তর করতে পারেন। আমরা তাদের সাদরে গ্রহণ করব। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি শক্ত অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।'


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. আ স ম আলী আশরাফ খোলা কাগজকে বলেন, পুশ-ইন ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশকে এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে) খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে হুইলচেয়ার, চশমা ও হেয়ারিং এইড বিতরণ