মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে| এসময় ইউপি সদস্য সুজাউদ্দীনের ওপর হামলা করেন জামায়াত নেতা-কর্মীরা| এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করেছে| ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারের দেওয়া ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় বেশ কিছু জামায়াত নেতা-কর্মীরা সেখা উপস্থিত হন| তারা ওই চালের ভাগ দাবি করেন| তাদের দাবি পূরণ না করায় তারা ইউপি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়|
এলাকাবাসী জানান, যদি তাদের তালিকাভুক্ত কোনো দুস্থ ব্যক্তি থাকে, তাহলে নাম দিলে যাচাই-বাছাই করে চাল দেওয়া হবে| কিন্তু তারা কোনো তালিকা না দিয়েই জোরপূর্বক চাল নেওয়ার চেষ্টা করে| জামায়াতের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে ইউপি সদস্যদের ওপর হামলা ও চাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে| পরে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে|
ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, চাল বিতরণেল সময় হঠাৎ জামায়াতের নেতা-র্মীরা এসে বাধা দিয়ে ˆবঠকে বসতে বলেন এবং সমান ভাগ চেয়ে চাল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে| এসময় অন্যান্য মেম্বার ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে সুজাউদ্দিন মেম্বারকে মারধর করেন| বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হলে তিনি ফোর্স পাঠান| সে সময় জামায়াত নেতারা সটকে পড়েন|
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর গাংনী উপজেলা আমির ডা. রবিউল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন| সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গরীব ও দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্বামী ও সন্তান জামায়াত কর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং লাঠি সোটা আনার জন্য প্রস্তুত হয়| চাল বিতরণের সময় প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলেন না| তার স্বামী আবুল হোসেন পরিষদের কোনো সদস্য নন, অথচ সেখানে চাল বিতরণ করছেন|
এ ঘটনার সময় প্যানেল চেয়ারম্যানের লোকজন জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরকে লাঞ্ছিত করেন| সংবাদ সম্মেলনে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা| এ বিষয়ে জানতে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি|
সমীকরণ প্রতিবেদক