শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গার হাঁপানিয়া স্কুলে বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

‘লাল পানি’ গানে যুবতীর অশ্লীল নাচ
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৪-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গার হাঁপানিয়া স্কুলে বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক

আলমডাঙ্গার হাঁপানিয়া সিরাজুল ইসলাম জোয়ার্দার মডেল স্কুলে বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের মঞ্চে ‘লাল পানি’ গানের সঙ্গে এক যুবতীর নাচকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল হাঁপানিয়া সিরাজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার মডেল স্কুলের অনুষ্ঠানকে  ঘিরে  এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মঞ্চে অশালীন অঙ্গভঙ্গিতে নাচ পরিবেশন করা হচ্ছে। যা অনেকের মতে একটি শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।


স্কুলের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এমন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গান-বাজনা ও নাচের নামে রুচিহীন পরিবেশ তৈরি করা হয়। তার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছিল এটা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেন যাত্রার আসর’ যেখানে উপস্থিত ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী ও অবিভাবকবৃন্দ। একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়; পূর্বেও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনেই আবারও এমন কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।


এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউল গনি ওসমানী দাবি করেন, পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষকরা কার্যত জিম্মি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আয়োজনের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম না, এমনকি স্কুলের ব্যানারও ব্যবহার করতে দিইনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, তা শুধুমাত্র খাবারের জন্য।’


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অবগত হওয়ার পর তদন্ত করে জানা গেছে, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মঞ্চে এই কর্মকাণ্ড ঘটে। তিনি একে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে আমাদের রুচির চরম অবক্ষয় ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।


স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, শিক্ষার পবিত্র পরিবেশে এমন বেহায়াপনা কীভাবে জায়গা পায়? এই বেহায়াপনা বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য ভালো কোন মূল্যবোধে গড়ে উঠবে না। এমনকি এই দায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এড়িয়ে যেতে পারে না। এ নিয়ে সুশীল সমাজের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



কমেন্ট বক্স