পবিত্র মাহে রমজান সামনে রেখে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে চুয়াডাঙ্গায় সুলভ মূল্যে প্রাণিজাত পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড় এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভ্রাম্যমাণ স্টোরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জনহিতকর উদ্যোগটির উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) আমাদের রমজান শুরু হবে। এই রমজান উপলক্ষে মানুষ যাতে সুলভ মূল্যে ভালো মানের খাবার খেতে পারে, তার জন্য একদম খামারি মূল্যে অর্থাৎ খুচরা মূল্য থেকে কম এবং ভালো মানের দুধ, ডিম, মাংস ও মুরগি এখানে বিক্রি করা হবে। আমি তাদরকে অনুরোধ কবর এই ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং যখন ক্রেতা বেশি থাকবে, তখন যেন লাইন ধরে দেওয়া হয়। যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। চাহিদা বেশি হলে খামারির সংখ্যাও বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো মুনাফার বিষয় নেই। এখানে আমরা শুধু মানুষের কল্যাণে সুলভ মূল্যে বিক্রয় করব।’
ডিসি কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা কৃষি অফিসকে অনুরোধ করেছি তারা যেন অন্য খামারিদের সাথে কথা বলে সামনে একটি ফলের দোকানের ব্যবস্থা করে। খামারিদের সাথে কথা চলছে, তারা যদি সফল হয়, তাহলে আমাদের চেষ্টা আছে একটি সুলভ মূল্য ও ভালো মানের দেশীয় ফলের দোকানের ব্যবস্থা করা।’ এছাড়া তিনি আরও বলেন, রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যবসায়ী যেন অধিক পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য মজুদ না করে এবং আমরা ভোক্তারা যেন এই এক মাসের বাজার একসাথে না করি। এতে বাজারে অহেতুক চাপ পড়ে এবং দাম বেড়ে যায়।’
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, পুরো রমজান মাস যেন এটা চলে। এটা চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। ক্রেতাগণদের কাছে অনুরোধ করা হলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপনারা প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ও ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। ভ্রাম্যমাণ এই স্টোর থেকে প্রতি পিস ডিম সাড়ে ৮ টাকা, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা, দুধ ৭৫ টাকা এবং সোনালী মুরগি ২৭৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের এই দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেবল উদ্বোধনী স্থান নয়, পুরো রমজান মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক দামে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক