শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জাতির উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও জামায়াতের আমিরের ভাষণ

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০২-২০২৬ ইং
জাতির উদ্দেশ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও জামায়াতের আমিরের ভাষণ


আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ


অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আমি এই স্বল্প সময়ে যতটুকু সম্ভব আপনাদের কাছে ছুটে গিয়েছি; আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিএনপির প্রতি আপনাদের আবেগ ও ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারও আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।’ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, আগামীদিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে আগামীদিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশাল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার। বিএনপির অঙ্গীকার। বিএনপি চেয়ারম্যানের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।


তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্র এবং সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের কাছে আমার অঙ্গীকারের কারণ- আপনারাই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। ফ্যাসিবাদ আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তথাকথিত ডামি নির্বাচনে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলাম ৭ জানুয়ারি সারাদিন পরিবারকে সময় দেবেন। বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবার দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান। আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন- ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক’। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন। ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমি নেব ইনশাআল্লাহ। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আপনাদের সমর্থন পাই তাহলে রাষ্ট্রীয় পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র থাকবে মহানবীর মহান আদর্শ— ন্যায় করার। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন।


বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মরহুমা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাফল্য যাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি আমার দলের নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন থেকে হাতে কলমে প্রস্তুতি নিয়েছি। তারেক রহমান বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘নাগরিককে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না। আমরা মনে করি, জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন কিংবা বিকেন্দ্রীকরণ- কোনোটিই টেকসই হবে না।’ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কালক্ষেপণ না করার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব। আমাদের লড়াই শুধু ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।’


প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সুশাসন :
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অঙ্গীকার করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে সংবিধান মোতাবেক। শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে সরকারি পদ-পদবিকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাব।”


পাচার হওয়া অর্থ ও জনকল্যাণ :
অর্থনীতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ ও ফিরিয়ে আনা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেওয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের পকেটে দিতে চাই।’ এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়নকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ভোটাধিকার :
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত হলো সরাসরি ভোটাধিকার। আমরা ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করব এবং স্থানীয় পরিষদের মাধ্যমে এই অধিকার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে  দেব। ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে কুক্ষিগত থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’


শহীদদের স্বপ্ন ও জনগণের মালিকানা : 
জুলাই অভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশের প্রকৃত মালিকানা ফিরে পাবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ হলেও অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। তাই এবার জনগণ নিজেদের প্রকৃত মালিকানা বুঝে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। গত ১৬ বছর এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন; এবারের ভোট সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক সুযোগ।” 


বিগত দেড় দশকের ত্যাগ ও আন্দোলনের স্মৃতি:
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, “গণতন্ত্রকামী মানুষের জীবনে আজকের এই শুভ সময় এমনি এমনি আসেনি। এর জন্য গত দেড় দশকে বিএনপিসহ সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে অসীম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালাগুলো ছিল একেকটি জ্যান্ত কবরস্থান।”


জুলাই অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি:
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, “গত আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশের জন্ম থেকে এ পর্যন্ত যত গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।” 


প্রাণের বিসর্জনের সার্থকতা:
ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে মানুষের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৭৫-এর ৭ নভেম্বর, ’৯০-এর গণআন্দোলন, শাপলা চত্বরের হত্যাকা- কিংবা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি ক্ষেত্রেই অগণিত মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছেন। একটি মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবারের সব আকাক্সক্ষা ও সম্ভাবনারও মৃত্যু ঘটে।” তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “এই মানুষগুলো কেন জীবন দিয়েছিল? কী ছিল তাদের চাওয়া? কোনো কিছু দিয়েই প্রাণের এই প্রতিদান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা এই বিপুল প্রাণের বিসর্জনকে বৃথা যেতে দিতে পারি না। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমেই আমাদের প্রকৃত ঋণ শোধ করতে হবে।” 


ঐক্যের ডাক ও শেষ বার্তা:
তারেক রহমান দেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমাদের সবার লক্ষ্য হবে জাতীয় ঐক্য এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।” ভাষণের শেষে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


তরুণ প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ


তরুণ প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ হবে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ এখন আর পুরানো রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায় না; তারা চায় বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ। আজকের তরুণরা বাংলাদেশ ২.০-এর স্বপ্ন দেখছে।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জামায়াত আমির এ কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এই ভাষণে তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্র সংস্কার, তরুণ নেতৃত্ব, সুশাসন, গণভোট, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও প্রবাসীদের ভূমিকা এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। ভাষণের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাইয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।


জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। তার ভাষায়, ‘রাস্তায় নেমেছিল তরুণরা, মা-বোনেরা, শ্রমিক-রিকশাচালক, পেশাজীবী মানুষ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো।’


তিনি বলেন, ‘জুলাই হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের দাবিতে, পরিবারতন্ত্র ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো ভাঙার প্রয়োজনে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পর থেকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনকে ‘তামাশায়’ পরিণত করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আর জুলাই চাই না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণকে আর কখনো রাস্তায় নামতে হবে না। এ জন্য রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’ তার মতে, জুলাই-পরবর্তী সরকার কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়নি কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ অবস্থায় সংস্কারকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।’ ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল তরুণদের ভূমিকা ও সম্ভাবনার আলোচনা। জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু একটি মহল সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে— কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না। সেই সাহস দেখিয়েছেন আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদিসহ জুলাইয়ের আন্দোলনের শহীদ ও সহযোদ্ধারা।’ তরুণদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারা পরিশ্রমী, সাহসী, মেধাবী এবং প্রযুক্তিবান্ধব। তারা সত্য বলতে দ্বিধা করে না এবং নতুনকে গ্রহণ করতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।’


শাসক শ্রেণির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে তারা নিজেদের দেশের মালিক মনে করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পকে দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর যেসব প্রতিনিধি সংসদ, সরকার কিংবা স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি। ‘দেশের মানুষই তার সাক্ষী’- এমন মন্তব্য করেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জাতির জন্য একটি ‘মহাসুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচন দিয়েই লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ শেষ করার সুযোগ এসেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে ঠিক করতে হবে— তারা তরুণ, নারী, শ্রমিক, বয়স্ক ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কেমন বাংলাদেশ চায়। একই সঙ্গে শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে নৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাই।’ জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান- এই পাঁচ বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে হবে। নীতি ও নৈতিকতাভিত্তিক রাজনীতি ছাড়া জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।’ নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যে সমাজ নারীর সম্মান নিশ্চিত করতে পারে না, সে সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। ক্ষমতায় এলে নারীরা সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন। বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সবার দেশ। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।’


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম মর্যাদার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া হবে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাই হবে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।’ প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জোট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হোন। আসুন, অতীতের রাজনীতি পরিহার করে সবাই মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি’ বলে ভাষণ শেষ করেন ডা. শফিকুর রহমান।



কমেন্ট বক্স