যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ৩৭ শতাংশ, পরে ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। আর তা নিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক আশঙ্কা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পর এই শুল্ক আরো ১৫ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ২০ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশের রপ্তানি খাত। অবশ্য এর জন্য প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে যে মূল্য দিতে হয়েছে এবং দিতে হবে বাংলাদেশকে, তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো অর্থনীতি বিশ্লেষক। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। শুল্ক বেশি হলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কে সামঞ্জস্য রয়েছে।
অনেকেরই শুল্ক কাছাকাছি কিংবা কারো কারো শুল্কের পরিমাণ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। পাকিস্তানের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপিত হয়েছে ১৯ শতাংশ। আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মায়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপিন্সের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ওপর নতুন বা বাড়তি শুল্ক আরোপের তালিকা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।
নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মার্কিন শুল্ক হ্রাস দেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় ধরনের সুসংবাদ। পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে এখন আমরা একটি তুলনামূলক সমান প্রতিযোগিতার অবস্থানে রয়েছি। তবে বাড়তি বর্তমান শুল্ক নিয়েও মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ওপর পোশাকের দাম কমানোর চাপ তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সম্মিলিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তাঁরা বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক সরঞ্জামে অগ্রাধিকার দিতে হবে, বিমানের মাধ্যমে মার্কিন উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ কিনতে হবে, এলএনজি, সয়াবিন তেল, গম, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, মোটরগাড়ি, কৃষিপণ্যসহ একাধিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তি করতে হবে এবং চীনা সামরিক ও প্রযুক্তিপণ্য থেকে সরে আসতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএসহ কয়েকটি সংস্থার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আরো কিছু সংবেদনশীল প্রতিশ্রুতি হয়তো গোপনীয়তা চুক্তির আওতায় দেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই জনসমক্ষে আসবে না। তাঁদের মতে, এসব শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং দেশি শিল্প-ব্যবসা মার্কিন নিয়ন্ত্রণের ছায়ায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আমরা চাই, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য দ্রুত এগিয়ে যাক। এ জন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নানা চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি সেইসব চুক্তিতে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক