দেশজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে খুন ও সহিংসতার ঘটনা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-তুচ্ছ কারণে মানুষ খুন হচ্ছে অবলীলায়। আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও নির্মমতা যেভাবে জেঁকে বসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি পুরান ঢাকায় এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে টেনে-হিঁচড়ে মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হত্যা করা হয়, কারণ তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই মধ্যে খুলনায় যুবদলের বহিষ্কৃত এক নেতাকে গুলি করে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে চাঁদপুরে এক মসজিদের খতিবকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এক মুসল্লি। এসব নৃশংসতা সমাজে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বারবার বিচারহীনতা, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে মব ভায়োলেন্সের ঘটনা বাড়ছে-গণপিটুনি, বাসায় হামলা, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। বারবার সরকার ও বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তা দিলেও সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে-সেনাবাহিনী মাঠে থেকেও কেন মব ভায়োলেন্স থামানো যাচ্ছে না?
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। এখনই সময় রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করুক।
সমীকরণ প্রতিবেদন