সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভারতের চাপে চীনের তিস্তা প্রকল্প অনিশ্চিত

  • আপলোড তারিখঃ ০২-০২-২০২৪ ইং
ভারতের চাপে চীনের তিস্তা প্রকল্প অনিশ্চিত

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চীন ঘোষণা দিয়েছিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিস্তা মহাপ্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। ঢাকায় কর্মরত চীনা রাষ্ট্রদূত এমনটাই ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার পানি চুক্তির মুলা ২০১১ সাল থেকে ঝুঁলিয়ে রেখেছে ভারত। ওই সময়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ঢাকা সফরে আসেন তিন্তার পানি চুক্তি করতে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমুার বাঁধা অজুহাতে চুক্তি ঝুঁলে যায়। এরপর থেকে উত্তরাঞ্চলের শুস্ক মৌসুমে পানি আটকে রাখায় চাষাবাদের সংকট এবং বন্যার সময় উজানের গজলডোবা বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে ভাসিয়ে দেয় ভারত। এটা যেন ভারতের প্রতি বছরের রুটিন কাজ হয়ে গেছে।
এর মধ্যে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের প্রস্তাব এগিয়ে আসে চীন। চীন এক যুগ আগে ৮২০০ কোটি টাকা ব্যায়ে হোয়াংহোর মতোই বাংলাদেশের তিস্তা খনন করে গভীর করা এবং নদীর দুই তীরে (১৩৩ কিলোমিটার) বাঁধাই করে মানুষের দুঃখ লাঘবের প্রস্তাব দেয়। তিস্তা প্রকল্পের আওতায় নদী খনন করে গভীরতা বাড়ানো, সারা বছর নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা, নদীর দুই তীরে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর দুই পাশে শহর গড়ে উঠবে, নদী শাসন হবে এবং নদীর নাব্যতা থাকবে। ফলে পুরো এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং দুই কোটি মানুষের জীবনও বদলে যাবে।
এমন প্রেক্ষাপটে তিস্তা নদীপাড়ের প্রায় দুই কোটি মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে তারা জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তিস্তা প্রকল্পের কাজ বিলম্বের প্রতিবাদ এবং দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে আন্দোলনের নামেন তারা। সরকারের দায়িত্বশীলরা তথা একজন প্রতিমন্ত্রী কয়েকদিন আগে জানান, তিস্তা মহাপ্রকল্পের কাজ শুরুর সম্মতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিস্তা নদীর লালমনিরহাট স্পট পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেক’ এর কাছাকাছি হওয়ায় চীন ভীতিতে ভারত প্রথম থেকেই তিস্তা মহাপ্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনে কর্মরত দিল্লিমুখাপেক্ষী কিছু আমলাও ‘ফাইল আটকিয়ে রেখে’ কয়েক বছর ধরে তিস্তা মহা প্রকল্পে বাঁধার সৃষ্টি করেন। এমন অবস্থায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারত, চীন ও রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ হয়। সরকারের প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বি দুই দেশ চীন ও ভারত এক সারিতে অবস্থান করায় চীন সরকার ক্ষমতায় বসেছে। এখন তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু চীনের ‘বাড়া ভাতে ছাঁই’ দেয়ার মতোই ভারতের চাপে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেই মহাপ্রকল্প। তিস্তার মহাপ্রকল্পের কাজ বাধার সৃষ্টি করতে গণকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপত্র সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে চীন ও ভারত একাট্ট অথচ চীনের তিস্তা প্রকল্প অনিশ্চিত করে তুলেছে ভারত। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলায় গণ ৩১ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশের যে প্রকল্প চীনের পছন্দ হলেও ভারতের আপত্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আকবর হোসেনের লেখা ওই প্রতিবেদন ইনকিলাব পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
বিসিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা নদীতে বাংলাদেশ অংশে একটি বহুমুখী ব্যারেজ নির্মাণের জন্য চীন যে তৎপর হয়েছে, সেটি আটকে আছে ভারতের আপত্তির কারণে। শেখ হাসিনার সরকার টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমুায় আসার পর ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত প্রকল্পটির ব্যাপারে আবারো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছিলেন, নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হবার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। নির্বাচনের পরে চীনের রাষ্ট্রদূত তার সেই আগ্রহ চাপা রাখেননি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে এক বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ চাইলে তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে তৈরি আছে চীন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের দিক থেকে প্রকল্পের প্রস্তাব পেলে চীন সহযোগিণা দেবে।
কিন্তু তিস্তা নদীর উপর এ প্রকল্প নিয়ে ভারত এবং চীন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেককেই ধারণা করেন, ভারতের আপত্তির কারণেই চীনের সাথে এ প্রকল্প নিয়ে এগুতে পারছে না বাংলাদেশ। মোদ্দা কথা হচ্ছে, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প ভূ-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিস্তা নিয়ে চীনের আগ্রহ : পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, তিস্তা নিয়ে চীনের আগ্রহ মূলত কৌশলগণ। এ প্রকল্পটিকে চীন ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে।
হিমালয়ে উৎপত্তির পর তিস্তা নদী ভারতের সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই এ নদী বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহী হয়ে ওঠার বড় কারণ হচ্ছে তাদের ‘বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা বিআরআই প্রজেক্ট। বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে একই সুতোয় গাঁথতে চাইছে। চীনের বিআরআই প্রকল্পের আওতাধীন বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর। প্রস্তাবিত এই করিডোরের মাধ্যমে চীন তাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশকে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে যুক্ত করতে চায়। এজন্য তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে।
ভারতের গবেষণা সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক অনুসূয়া বসু রায় চৌধুরী বলেন, চীন প্রথম যেভাবে ‘বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ করতে চেয়েছিল সেখানে থেকে পরিস্থিতি এখন অনেক বদলেছে। বিগণ বছরগুলোতে ভারত ও চীনের সস্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। অন্য কোনভাবে এই করিডোরগুলো বা এই ধরণের কানেক্টিভিটি প্ল্যানগুলো চরিতার্থ করা যায় কি না সেটা অবম্যই চীনের উদ্দেশ্য তো থাকবেই।
তবে এ নিয়ে ভিন্নমতও আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ভারতের সিকিম হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত তিস্তার অববাহিকা ঘুরে দেখেছেন। অধ্যাপক আহমেদ মনে করেন, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহ এখানে গৌণ এবং তাদের কোন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত নেই। তিনি বলেন, তিস্তা নদীতে এটি বাংলাদেশের প্রকল্প, এটি চীনের কোন প্রকল্প নয়। চীন শুধু এখানে অর্থায়ন করতে রাজী হয়েছে। কারণ অন্যরা সে অর্থ দিতে পারছেনা।
তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে ভারত যেহেতু বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতে পারছেনা, সেজন্য এর বিকল্প একটি সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। এজন্য তিস্তা প্রকল্প সামনে এনেছিল বাংলাদেশ, এ প্র্রকল্প চীনের ভাবনা থেকে আসেনি। এটা বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের চিন্তা থেকে এসেছিল। বাংলাদেশের অংশ তিস্তা নদীর অববাহিকায় উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের কৃষি ও মৎস্যসহ নানা ধরণের কর্মকাণ্ড জড়িত। তিস্তা প্রকল্পের সাথে চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার নয় অধ্যাপক আহমেদের কাছে। তিনি বলেন, কলকাতার সাথে সংযোগের বিষয়টি পদ্মা সেতুর মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে তিস্তা প্রকল্পের মাধ্যমে সংযোগ কীভাবে হবে। তিনি মনে করেন, যারা প্রবলভাবে ভারত কিংবা চীন বিরোধী তারা এসব কথা বলছে।
ভারতের আপত্তি কেন : তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহকে ভারত বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে। ভারত মনে করে, চীন তাদের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে ভারতকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলতে চায়। ভারতের গবেষণা সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অনুসূয়া বসু রায় চৌধুরী বলেন, তিস্তা প্রকল্পের যে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে সেটি অস্বীকার করা যাবেনা। তিনি বলেন, ভূ-কৌশলগণভাবে গুরুত্ব বহন করে এমন সব প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চীন ‘অতিরিক্ত আগ্রহ’ প্রকাশ করে। চীন চায় তাদের উপস্থিতি জোরালো করতে। তাছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিস্তা নদীর পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা প্রকল্পের আওতায় আছে নদী খনন করে গভীরতা বাড়ানো, সারা বছর নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা, নদীর দুই তীরে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ। এ প্রকল্প নিয়ে ভারতের আপত্তির বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রথমত: ভারত যদি এই প্রকল্পকে স্বাগণ জানায়, তাহলে এখানে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে এবং সেক্ষত্রে তাদের বিনিয়োগের প্রশ্ন উঠতে পারে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এরকম একটা প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখা ভালো। সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের উপর চাপ বজায় রাখতে পারে। তিনি মনে করেন, তিস্তা ইস্যু সমাধান হয়ে গেলে বাংলাদেশের উপর ভারতের যে প্রভাব, সেটা আর থাকবে না। অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তখন আর ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীর দুই পাশে শহর গড়ে উঠবে, নদী শাসন হবে এবং নদীর নাব্যতা থাকবে। ফলে পুরো এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং দুই কোটি মানুষের জীবনও বদলে যাবে। এর ফলে সেখানে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি ভারত-বিরোধী মনোভাব আরো প্রবল হব-বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপক আহমেদ।
চীনের প্রভাব বাড়বে : শেখ হাসিনার সরকারের সাথে ২০০৯ সাল থেকে ভারতের সম্পর্ক বেশ ভালো থাকলেও দেশটিতে চীনের প্রভাব বাড়ছে বলে ভারতের ভেতরে অনেকে মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে ভারতের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তিও আছে। এর আগে ২০২২ সালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত যখন তিস্তা নদীতে সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন, তখন বিষয়টি নিয়ে বেশ সুর্ক হয়েছিল ভারত। ব্যাপরটিকে তারা ভালো নজরে দেখেনি। এনিয়ে তখন ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নানা ধরনের রিপোর্ট ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছিল। তখন ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকা লিখেছিল, শেখ হাসিনা যদিও বলেছেন যে নরেন্দ্র মোদীর নেুৃত্বে তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী, তারপরও পানি সমস্যার সমাধান করার জন্য তিনি বিকল্প উপায়ও চিন্তা করছেন।
দ্য টেলিগ্রাফ আরো লিখেছিল, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের কৌশলগণ উদ্বেগও রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে চীনের জোরালো উপস্থিতি থাকবে। কারণ এর কাছাকাছি ভারতের উত্তরবঙ্গে ‘চিকেন নেক’ বা কম প্রশস্তের জায়গা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে বাকি দেশের সংযোগ রয়েছে। এতো কাছাকাছি চীনের অবস্থান থাকলে সেটি ভারতের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
গবেষক অনুসূয়া বসু রায় চৌধুরী বলেন, যে জায়গাটিতে চীন তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছে, সেটি ভারতের স্পর্শকাতর এলাকার খুব কাছাকাছি। এটা সীমান্তের কাছাকাছি শুধু তাই নয়। শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জন্য কৌশলগণভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের সাথে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সংযোগ স্থাপন করেছে এই শিলিগুড়ি করিডোর। সেজন্য এই জায়গা খুবই সংবেদনশীল।
ভারতের সাবেক ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ সরন সম্প্রতি এক নিবন্ধে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। ‘বাংলাদেশ ইলেকশনস অ্যান্ড ইট্স আফটারমাথ’ শিরোনামে সে নিবন্ধে পঙ্কজ সরন উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ নীতি অনুসরণ করেছেন। যদিও চীনের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকে যাওয়া এবং আমেরিকার সাথে শীতল সম্পর্ক তৈরি হবার বিষয়টিতে সে নীতি ফুঁটে ওঠেনি। পঙ্কজ সরন আরো লিখেছেন, শেখ হাসিনার এবারের মেয়াদে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পশ্চিমের সাথে দুরত্ব কমিয়ে সে সম্পর্ককে উল্টোভাবে চিন্তা করার সুযোগ রয়েছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারতের আপত্তির মুখে তিস্তা প্রকল্প চীনের সাথে এগিয়ে নেয়া বাংলাদেশের জন্য সহজ হবেনা। এমনটাই মনে করেছেন অনেকে। তথ্য সুত্র- দৈনিক ইনকিলাব।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী