চুয়াডাঙ্গায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে যুবক
- আপলোড তারিখঃ
১৬-১২-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় নাকে রুমাল চেপে মাহফুজ (২৩) নামের এক কলেজছাত্রকে অচেতন করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়া পুরাতন কবরস্থানের সামনে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীর থাকার পর চেতনা ফেরে তাঁর। অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়া যুবক চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খেজুরা গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তবে তাঁর পিতা কর্মসূত্রে দেশের বাইরে থাকায় মায়ের সঙ্গে তিনি বাগান পাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজ সময়ের সমীকরণকে জানান, আলমডাঙ্গায় তাঁর ফুফুর বাড়ি থেকে একটি কাজের জন্য নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আসছিলেন তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গা থেকে একটি ইজিবাইকে চড়েন। ইজিবাইকে একজন চালক ও ভেতরে যাত্রীর আসনে অপর একজনসহ মোট দুজন ছিলেন। তিনিও ইজিবাইকে চড়লে চালক তাড়া আছে বলে যাত্র শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরেই মুন্সিগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে তাঁর নাকে রুমাল চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তাঁর আর তেমন কিছুই মনে নেই।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিয়াসাদ জামান বলেন, ‘রাত সাড়ে সাতটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন অচেতন অবস্থায় এক যুবককে জরুরি বিভাগে নেয়। জানতে পারি তিনি ইজিবাইকের মধ্যে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে। পরে তার চেতনা ফিরেছে বলে শুনেছি। এ ধরনের ঘটনায় দেখা যায় অজ্ঞান পার্টি বা প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীদেরকে ওষুধ মেশানো খাদ্র্যদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে। তবে একই ধরণের কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো নিশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ অচেতন হয়ে পড়ে। গণপরিবহনে যাত্রীদের অজ্ঞান করতে একটি বিশেষ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারীরা। যাকে ট্রাঙ্কুলাইজার বা চেতনানাশক বলা হয়। এই ওষুধ দ্রুত কাজ করে। এতে গভীর ঘুম হয়, আর পরিমাণে কম লাগে। এর বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার আগের বা পরের ঘটনা মানুষ মনে করতে পারে না। তবে যাদের কিডনি বা যকৃতের সমস্যা আছে, তাদের ওপর এই ওষুধ মারাত্মক প্রভাব ফেলে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে ঘটনাটি আলমডাঙ্গা থানাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করবে বলেও শুনেছি।’
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স