নববধূকে রেখেই আত্মহত্যা করলেন বর!
- আপলোড তারিখঃ
২৯-১১-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় নববধূ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফিয়ে পড়ে বোরহান উদ্দিন (২১) নামে এক বর আত্মহত্যা করেছেন। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কুলপালায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। রাত ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত বোরহান উদ্দীন মেহেরপুর সদর উপজেলার নবগঠিত বাড়াদি ইউনিয়নের নতুন দরবেশপুর গ্রামের মিয়াজান আলীর ছেলে ও মেহেরপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনার পর থেকেই বোরহানের পরিবারে চলছে শোকের ছায়া। দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলের অকাল মৃত্যুতে কান্নায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন নিহত বোরহানের মা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ‘দুইবার স্বামী পরিত্যক্তা পপি খাতুন নামের এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বোরহানের। গত শনিবার বোরহান ও পপি পরিবারের অমতে পালিয়ে বিবাহ করে। এরপর থেকে গত রোববার রাত পর্যন্ত বর ও নববধূ সদর উপজেলার সিংহাটি গ্রামের বোরহানের চাচাতো বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিল। গত রোববার রাত ১০টার দিকে বোরহানের বিবাহ ও বোনের বাড়িতে অবস্থানের বিষয়ে জানতে পেরে বোরহানের পিতাসহ পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসযোগে সিংহাটি গ্রামে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছানোর পর বোরহানের বাবা ছেলে ও পুত্রবধূকে মেনে নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথের মধ্যে বোরহানের এভাবে বিবাহ করা নিয়ে কটুকথা শোনান তাঁর বাবা। এসময় পিতার ওপর বিরক্ত হয়ে চলন্ত মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে রাস্তার ওপর লাফিয়ে পড়লে সামনে থেকে আসা একটি ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয় বোরহান। এসময় মাইক্রোবাসযোগে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘রোববার রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় বোরহান নামের এক যুবককে জরুরি বিভাগে নেয়। প্রথমে ব্যাডমিন্টন খেলতে যেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে বলে জানালেও পরে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি জানায় তারা।
চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেওয়া ও ট্রাকের টাকায় পৃষ্ট হওয়ায় বোরহানের দুই পা ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া আছে। জরুরি বিভাগে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বোরহানের মৃত্যু হয়।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘পরিবারের অমতে বিবাহ করায় পিতা কটু কথা বলায় চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিয়ে বোরহান নামের এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও তাঁদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে, গতকাল বিকেলে পুলিশি প্রক্রিয়াশেষে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাদ মাগরিব জানাজা নামাজ শেষে গ্রাম্য কবরস্থানে নিহত বোরহানের লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
কমেন্ট বক্স