আলমডাঙ্গায় নির্বাচনী সহিংসতা, বিভিন্ন স্থানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর
- আপলোড তারিখঃ
২৯-১১-২০২১
ইং
আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া, ভোট গণনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের গুলি ফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার ভোটের সারা দিনে আলমডাঙ্গা কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ভোট কেন্দ্রীক এই রেশারেশিতে ভাঙচুর হয়েছে ৮টি বাড়ি, আহত হয়েছে চারজন ও পুলিশের হাতে আটক হয়েছে পাঁচজন।
জানা যায়, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। ১২টার পরে হঠাৎ করেই তালা, মোরগ ও ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল পাঁচটার দিকে ভোট গণনার সময় দ্বিতীয় বারের মতো ফুটবল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী ও মোরগ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মোট পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন উদয়পুর গ্রামের আলমের স্ত্রী আরিফা (৩০) ও রেজাউলের ছেলে ফরজ আলী (৩৫)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ চার রাউন্ড গুলি ফায়ার করে। এ ঘটনার পরেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে আটক করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) ও নির্বাচনের মাঠের স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠু পরিবেশে আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সেন্টারে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ চলছিল। তবে সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় বোয়ালিয়া গ্রামে ইটের আঘাতে দুজন ও হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর আরও দুজন আহত হয়েছেন। উদয়পুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে উত্তেজিত জনতার ওপর লাঠি চার্জসহ ৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ফায়ার করা হয়েছে। এসময় আমরা চারজনকে আটকও করেছি। এছাড়া বারাদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনায় বিএনপি এজেন্ট দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে একটি উত্তপ্তকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানেও আমরা দ্রত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।
এদিকে, ভাঙবাড়িয়া ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সর্মথকদের ইটের আঘাতে নৌকা প্রতীকের দুজন সর্মথক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আহত দুজনকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালে ভর্তি করে। আহতরা হলেন- ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত জাহা বক্স বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুর রহমান (৬০) ও একই এলাকার মৃত সিদ্দিক বিশ্বাসের ছেলে মাহবুব আলম (৪৫)।
জানা যায়, গতকাল সকালে নিজ বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্মথক আশরাফুর রহমান ও মাহবুব আলম। ভোট কেন্দ্রের নিকটে পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সর্মথকরা রাস্তার পাশের একটি বাড়ির ছাদ থেকে তাঁদের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় ইটের আঘাতে আশরাফুর রহমান ও মাহবুব আলম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত দুজনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাপসাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আশরাফুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে একবার ভোট কেন্দ্রের দিকে আমি গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশ করিনি। পরে ১০টার দিকে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে রাস্তার পাশের একটি বাড়ির ছাদ থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্মথকদের কয়েকজন আমাদেরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় আমার মাথায় একটি ইটের টুকরো এসে লাগলে আমি মাটিতে পড়ে যায়। পরে গ্রামের লোকজন আমাকে হাপসাতালে নিয়ে আসে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে রক্তাক্ত আহত দুজনকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। দুজনেরই মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পেয়েছি। তারা ইটের আঘাতের শিকার হয়েছেন বলে জেনেছি। মাথায় গুরুতর জখম হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে দুজনকেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসাতালের পুরুষ সার্জারি বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় বোয়ালিয়া গ্রামে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় দুজন নৌকার সর্মথক আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ঘটনার পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এ ঘটনায় আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স