মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিলুপ্ত পাখি ‘জলময়ূর’

  • আপলোড তারিখঃ ২২-১১-২০২১ ইং
বিলুপ্ত পাখি ‘জলময়ূর’
ময়ূর সবাই চিনে, তবে জলময়ূর অনেকের অচেনা। এই পাখি সাধারণত জলময়ূর, নেউ, নেউপিপি, পদ্মপিপি, মেওয়া নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাখি। লম্বালেজী অনিন্দ্য সুন্দর পাখিটি বাংলাদেশের একটি দুর্লভ আবাসিক পাখি। এ বছর শীতের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহের বিভিন্ন বিল-বাওড়গুলোতে আসতে শুরু করেছে প্রায় ২০ প্রকারের অধিক নানা জাতের অতিথি পাখি। তবে অন্য বছরে আগত পাখিদের সাথে এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিলুপ্ত প্রায় পাখিদের মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্যময় পাখি ‘জলময়ূর’। প্রজননকালে এই পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক-ঢাকনি সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি- হলুদ, পিঠ গাড় বাদামি, বুক-পেট কালচে বাদামি ও লেজ কালচে হয়ে থাকে। এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জলাধারের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। বন বিভাগ জলময়ূরের জাত রক্ষায় নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এটি লম্বা লেজী একটি পাখি। আড়িয়া গ্রামের পাখি প্রেমিক শাহিন সরকার বলেন, বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’। এ পাখির তিন ধরনের প্রজাতি রয়েছে। নেউ, নেউপিপি এবং পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত। প্রজননকালে জলময়ূর অত্যন্ত সুন্দর হয়ে ওঠে। এসময় ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা লেজসহ পাখির দেহের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৯ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ১১৩ থেকে ১৩৫ গ্রাম। স্ত্রী প্রজাতির পাখি ২০৫ থেকে ২৬০ গ্রাম হয়। প্রজননকারী পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালক সাদা থাকে। ঘাড় সোনালি-হলুদ, পিঠ গাঢ় বাদামি, বুক-পেট কালচে-বাদামি ও লেজ কালচে হয়। একটি কালচে-খয়েরি রেখা মাথা ও ঘাড়-গলার সাদা ও সোনালি-হলুদ রংকে পৃথক করেছে। ঠোঁট নীলচে হয়। চোখ বাদামি ও পা নীলাভ-কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হয়ে থাকে। তবে পাখিগুলো বিলুপ্ত হবার পিছনে অবৈধ পাখি শিকারীদেরকে ভূমিকা রয়েছে। যদি এই পাখিগুলোকে মুক্তভাবে চলাচলের অভয়ারণ্য করে দেওয়া যায়, তাহলে শুধু জলময়ূর না পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আসা অতিথি পাখিদের মেলা বসবে সকল এলাকার হাওড়-বাওড়গুলোতে। এবিষয়ে মানবতার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাখি প্রেমিক শাহরুখ খান বলেন, হাওড়, বিল, হ্রদ এবং মিঠাপানির জলাভূমিতে বাস করে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই দেখা যায় এ পাখিটি। গ্রীষ্মকালে একাকি বা জোড়ায় ও শীতকালে ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে হেঁটে জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকা-মাকড় ও অমেরুদণ্ড প্রাণি খায়। এ ছাড়াও জলজ উদ্ভিদের কচি পাতা, অংকুর ও বীজ খেয়ে থাকে। সচরাচর ওড়ার সময় করুণ সুরে নে...উ...ইউ..., নে...উ...ইউ..., নে...উ...ইউ স্বরে ডাকতে থাকে। প্রজননকালে পুরুষ শাপলা ও পদ্মপাতা বা এ জাতীয় ভাসমান কোনো উদ্ভিদের পাতার ওপর বাসা বানায়। স্ত্রী এতে চারটি জলপাই-বাদামি চকচকে ডিম পেড়ে চলে যায়। পুরুষ একাই ডিমে ২৩ থেকে ২৬ দিন তা দিয়ে বাঁচ্চা ফোটায়। ডিম থেকে ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চা হাঁটতে, সাঁতরাতে ও ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানে থাকে। এলাকাবাসীগণ বলেন, এ বছর এলাকার সকল বিল-বাওড়ে হরেক ধরনের পাখির আনাগোনা দেখা মিলছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ বিল-বাওড়ের মাছের অধিক বৃদ্ধি পাওয়া যেত। এবিষয়ে তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই কুদ্দুস আলী বলেন, ‘এর আগে শুনেছি অনেকে এলাকার বিভিন্ন মাঠ, বিল-বাওড় থেকে পাখি শিকারীরা পাখি শিকার করতো, তবে আমাদের কাছে সময়মত তথ্যের অভাবে পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে এবছর এবিষয়ে আমাদের কঠোর নজরদারি থাকবে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী