সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে চলছে গণপরিবহন ধর্মঘট

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-১১-২০২১ ইং
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে চলছে গণপরিবহন ধর্মঘট
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ভাড়া বাড়ানো না হলে তারা রাস্তায় পরিবহন নামাবেন না। জানা গেছে, গতবুধবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে ভাড়া বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ ঘোষণা ছাড়াই গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। এদিকে, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রাস্তায় বেরিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, শুক্রবার থেকে গাড়ি বন্ধ থাকার বিষয়ে তারা অবগত নয়। জরুরি প্রয়োজেন রাস্তায় বেরিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চুয়াডাঙ্গা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘটনায় ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তবে রাস্তায় চলছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন পরিবহন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার সবকটি রুটে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বাস চলাচল। গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পরিবহন হিসেবে চলছে ইজিবাইক, অটোরিকশা, পাখিভ্যান। যাত্রীদের অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছাতে বাসের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে এসব যানবাহনে। জরুরি কাজে আলমডাঙ্গায় যেতে হবে ব্যবসায়ী মিনাজ উদ্দিনকে। উপায় না পেয়ে বাসের থেকেও বেশি ভাড়া দিয়ে ইজিবাইকেই যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বাস বন্ধ। আলমডাঙ্গায় যেতে বাস ভাড়া লাগে ২৫ টাকা লাগে। কিন্তু ইজিবাইকে ভাড়া চাচ্ছে ১ শ টাকা। এখন ভাড়া বেশি লাগলেও যেতে হচ্ছে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির হোসেন। হঠাৎ বাস বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন তিনি। আবির নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে। আমি জরুরি কাজে বাড়ি এসেছিলাম। কিন্তু আগামীকাল (শনিবার) আমাকে ক্লাসে উপস্থিত হতে হবে। চট্টগ্রামে বাস ছাড়া অন্য পরিবহনে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’ দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রহিম তার মা আমেনা খাতুনকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় যাবেন চিকিৎসকের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। বিকল্প কোনো পরিবহনই পাচ্ছি না। ইজিবাইকে অনেক বেশি ভাড়া চায়।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আসলে তেলের দাম বাড়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার সবকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তেলের দাম বাড়ালে তো পরিবহনের ভাড়াও বাড়াতে হবে। হয় তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে অথবা পরিবহনের ভাড়া বাড়াতে হবে। অন্যথায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলবে।’   `` চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু জানান, ‘মূলত চুয়াডাঙ্গা জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চলাচল করছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী পরিবহন। এগুলোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি। আগামীকাল (শনিবার) সিদ্ধান্ত হতে পারে।’ ঝিনাইদহ: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশের মতো ঝিনাইদহের বিভিন্ন রুটে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ফলে সকাল থেকে ঝিনাইদহের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। যানবাহন বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম না কমানো পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে শহরের বাসটার্মিনাল, আরাপপুর, বাইপাস সড়ক, চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের কোনো জ্বালানি তেলবাহী যানবাহন। এমনকি পরিবহনের টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ। এদিকে, শহরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকেই ভীড় দেখা গেছে ঢাকা, কুষ্টিয়া, খুলনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যগামী যাত্রীদের। অনেককে দেখা গেছে, পায়ে হেটে কিংবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে গন্তব্যে যেতে। রুহিনী কুমার রায় নামে এক যাত্রী জানান, চিকিৎসার জন্য এক আত্মীয়কে নিয়ে তিনি যশোর যাবেন। কিন্তু এসে শুনতে পান বাস ধর্মঘটের কথা। এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছুই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন সাফিয়া বেগম। তিনি বলেন, অসুস্থ ভাইকে দেখতে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছি। স্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস চলাচল বন্ধ। এখন ব্যাগ আর দুই বাঁচ্চাকে নিয়ে বিপদে পড়েছি। পুরান ঢাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন জানান, ‘ঝিনাইদহে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। এখন ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসে দেখি যানবাহন চলাচল বন্ধ। এখন কী করে ঢাকায় ফিরব বুঝতে পারছি না।’ মিরাজ নামের অপর এক যাত্রী জানান, ঢাকায় একটি স্কুলের ভ্যান চালান তিনি। কালকের মধ্য পৌঁছাতে হবে। কিন্তু কোনো বাহন পাচ্ছেন না। ঝিনাইদহ জেলা বাস-মিনিবাস পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু জানান, ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু সরকার এখনও দাম কমানোর বিষয়ে আমাদের সাথে কোনো কথা বলেনি। তাই দাম না কমা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী