সাবেক নেতারা বললেন, নতুন নেতৃত্ব তৃণমূলে দলকে নিশ্চয় আরো সুসংগঠিত করবে
সাত বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাহমুদ হাসান খান বাবুকে আহ্বায়ক ও মো. শরীফুজ্জামান শরীফকে সদস্যসচিব করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বুধবার এই কমিটির অনুমোদন দেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন এই কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর বয়সী আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বের অবসান ঘটল। অর্থাৎ, পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলো।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদ হাসান খান বাবুকে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। মো. শরীফুজ্জামান ওই কমিটির সদস্য ছিলেন। এ আহ্বায়ক কমিটিকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অধীনস্থ সব ইউনিট গঠন ও পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা থাকলেও অন্তঃকলহের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যার কারণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় ওই আহ্বায়ক কমিটি। এরপর নানা অভিযোগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুহা. অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসকে ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। পরে মাহমুদ হাসান খান বাবুকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। এরমধ্যে নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলো।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘পূর্বে আমি ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ছিলাম। কিন্তু এত বছর পর গঠিত নতুন কমিটিতে আমাকে আহ্বায়ক করায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘদিন যাবত থাকলেও স্থানীয় কমিটি ছিল না। যার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাসহ সবাই খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তাই আমি জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ তৃণমূলের সকল কমিটিগুলো যোগ্যতার ভিত্তিতে গঠন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আশা করছি বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়া আজকের এইদিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। কমিটিতে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালনে আমি সবর্দা সচেষ্ট থাকবো। একইসাথে আমার এই কমিটির আহ্বায়ক বাবু খানের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী যতো দ্রুত সম্ভব, তৃণমূলের সকল কমিটি আন্দোলন-সংগ্রাম উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেব। এজন্য আমি দলের তৃণমূলসহ সকল পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সহযোগিতা কামনা করছি।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয় প্যাডে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নতুন কমিটির অনুমোদিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর থেকেই তা মুহূর্তেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফেসবুকজুড়ে বিএনপির সাধারণ নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে অভিনন্দন জানাতে থাকে, যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। নতুন কমিটি অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎফুল্লতা ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরের রজব আলী মার্কেটে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব শরীফুজ্জামান শরীফের ভিজে স্কুল রোডস্থ বাসভবনে শত শত নেতাকর্মী জড়ো হয়ে নবনির্বাচিতদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এসময় বিএনপি নেতা শরীফও সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, সাত বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নতুন এই কমিটি গঠনের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতারা। সাবেক বিএনপি নেতারা তৃণমূলে দল সুসংগঠিত হোক নতুন নেতৃত্বের কাছে সেই প্রত্যাশা করেছেন। এছাড়া জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজীব খান, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, যুগ্ম সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ নতুন কমিটির নবনির্বাচিতদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার আলী হোসেন নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরপূর্বেও বিএনপির অনেক আহ্বায়ক কমিটি গঠন গতে দেখেছি। কিন্তু তাঁরা কেউই জেলার নেতাকর্মীদেরকে সুসংগঠিত করতে পারেননি। তবে সাত বছর পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি দিলো। এই কমিটির নেতারা জেলা বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করুক, তাঁদের কাছে সেই প্রত্যাশা থাকবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা বলেন, ‘নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে আমি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন এই কমিটি দিয়েছেন। তাই আমি আশা করবো, নতুন এই কমিটি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপিকে আরো গুছিয়ে এনে দলকে আরো সুসংগঠিত করবে। আমার সহযোগিতা সর্বদা থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজান মুকুল বলেন, নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই। দীর্ঘদিন পরে হলেও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি পেল। আমি আশা করি, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের হাত ধরে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু ও সদস্য সচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন মালিতা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় পাঠান। বিজ্ঞপ্তিতে মোমিন মালিতা জানান, ‘জেলা বিএনপির দুজন পরীক্ষিত নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ায় জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল-উৎসাহিত। যোগ্য নেতৃত্ব বাঁছাই করায় জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক জনাব তারেক রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একইসঙ্গে নতুন নেতৃত্বে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো গতিশীল হবে বলে জেলা ছাত্রদল প্রত্যাশা করে।