দর্শনায় সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকরা চরম বিপাকে : সঞ্চয় ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকসহ বীমা নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কমনা
- আপলোড তারিখঃ
০৫-০৬-২০১৭
ইং
দর্শনা অফিস: দর্শনায় সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সাধারণ গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা নিশ্চিত ভবিষ্যতের ভাবনায় তাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা সঞ্চিত অর্থ সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে জমা দিয়ে এখন পড়েছে বিপাকে। গ্রাহকরা ১০/১২ বছর ধরে দর্শনায় সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে টাকা জমা করে মেয়াদ শেষে তাদের জমাকৃত মূল টাকাসহ লভ্যাংশ পেতে দিনের পর দিন ঘুরছে ওই ইন্স্যুরেন্সের অফিসে। তবুও মিলছে না তাদের রক্ত ঘামে সঞ্চিত অর্থ। ফলে গ্রাহদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম অবিশ্বাস, হতাশা ও ক্ষোভ। অথচ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর নিয়মানুয়ায়ী মেয়াদ উর্ত্তীনের পর প্রয়োজনীয় কগজপত্র জমা দেওয়ার ২১দিনের মধ্যে গ্রাহককে তার লভ্যাংশসহ জমাকৃত সব টাকা বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ম রয়েছে। সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের স্কিমের মেয়াদ উর্ত্তীন হলেও তারা তাদের জমাকৃত অর্থ লভ্যাংশসহ ফেরত পেতে ৬/৭মাস যাবৎ সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, দর্শনা অফিসে ঘুরে ঘুরে উদ্ধার করতে পারছে না। শ্যামপুর গ্রামের মৃত হেলা মন্ডলের ছেলে আব্দুল মোমিন, দর্শনার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী আছমা খাতুন, আমিরুল ইসলামের স্ত্রী বুলবুলী, জীবননগরের কাটাপোল গ্রামের মৃত নিমাই বিশ্বাস ছেলে কৃষ্ণ দীর্ঘ ৩/৪ বছর ধরে দর্শনা সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স অফিসে ঘুরছে তাদের সঞ্চিত অর্থ ফিরে পেতে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা বীমা নিয়ন্ত্রন সংস্থার (আইডিআরএ) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসব গ্রাহকরা কেন তাদের সঞ্চয় ফেরত পাচ্ছেন না?- জানতে চাইলে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী, দর্শনা অফিস ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাগজপত্র তৈরী করে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখনও কোন ফলাফল পাইনি। দর্শনায় সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর এটা অফিস নয়। দর্শনা কলেজ পাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলীর ছেলে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর নামে গ্রাহকদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন করেছে। সে সব গ্রাহকরা এখন আমার অফিসে আসছে। এছাড়া ওয়াজেদ আলীর বড় ছেলে শরীফ উদ্দিন সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে। এসব ঘটনা তুলে ধরে শরীফ উদ্দিনের নিকট এসব গ্রাহদের সমাধান জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজশাহী অঞ্চলে আছি। এসব বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। এমন অবস্থায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের সঞ্চিত অর্থ ফিরে পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কমেন্ট বক্স