চুয়াডাঙ্গায় ঝুলন্ত অবস্থায় যুবতীর মরদেহ উদ্ধার
- আপলোড তারিখঃ
১৬-১০-২০২১
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তৃষ্ণা রহমান (১৮) নামের এক যুবতীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তৃষ্ণাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তৃষ্ণা রহমান চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের জোয়ার্দ্দারপাড়ার বাবুল হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, ‘গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে তৃষ্ণা মা বিথী রহমান একই এলাকায় তাঁর মায়ের বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এসময় তৃষ্ণাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে তৃষ্ণার ঘরের দিকে যান। কিন্তু দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। এসময় একই বাড়ির অন্য একটি ঘরের জানালা দিয়ে তৃষ্ণার ঘরের ভেতরে তাকালে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিথি রহমানের চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত সেখানে এসে ঘরে ঢুকে তৃষ্ণাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তৃষ্ণার মৃত্যু হয়।
নিহত তৃষ্ণার মা বিথি রহমান বলেন, ‘বিকেলে তৃষ্ণা বাড়িতে একা ছিল। ওকে বাড়িতে রেখে আমি ১০ মিনিটের জন্য মায়ের বাড়িতে গেছিলাম। সেখান থেকে বাড়িতে এসে দেখি তৃষ্ণার ঘরের দরজা দেওয়া। পাশেই আমার দাইদির ঘর। ওর ঘরের জানালা দিয়ে তৃষ্ণার ঘরের ভেতরে তাকালে দেখি মেয়ে আমার ঝুলে আছে। তখন বাড়ির সবাই ছুটে আসলে তৃষ্ণাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’ বিথি রহমান আরও জানান, ‘পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে তৃষ্ণা। এরপর শারীরিক অসুস্থতার করণে সে আর লেখাপড়া করেনি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তৃষ্ণাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তৃষ্ণা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে জরুরি বিভাগে আমরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে লাশের ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের জোয়ার্দ্দারপাড়ার এক যুবতীর অপমৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। প্রাথমিক তদন্তে এটা আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় দাশ দাফনের অনুমতি দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স