বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় আলোচিত নাতাশা কর্তৃক গৃহপরিচারিকা নির্যাতন আমেনার পাশে লোকমোর্চা : থানায় মামলা

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৬-২০১৭ ইং
আলমডাঙ্গায় আলোচিত নাতাশা কর্তৃক গৃহপরিচারিকা নির্যাতন আমেনার পাশে লোকমোর্চা : থানায় মামলা
`DSC00532` আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার বাবুপাড়াস্থ লুলু মাষ্টারের মেয়ে নাতাশা বাড়ির গৃহপরিচারিকার ওপর অভ্যাসবশত মর্মান্তিক নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতা আমেনার পাশে দাড়িয়েছে লোকমোর্চা। এই নির্যাতনের ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা আমেনা বাদী হয়ে সমালোচিত নাতাশার নামে একটি মামলা করেছে। যে মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে লোকমোর্চা। গতকাল ঘটনার সংবাদের পর জেলা লোকমর্চার সভাপতি এ্যাডভোকেট আলমঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট এম শাহাজান মুকুল, এ্যাড. হানিফ উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা সদর লোকমোর্চার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা উপজেলার লোকমোর্চার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম, সবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, কিশোর কুমার, কানিজ সুলতানা, উপজেলা লোকমোর্চার সদস্য শহিদুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্যাতিতা আমেনা খাতুনকে দেখতে যান এবং তার খোঁজখবর নেন।  উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকার নয়টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের বাবুপাড়ায় বসবাসকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লুলু মাস্টারের মেয়ে নাতাশা গৃহপরিচারিকা আমেনা খাতুনের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে আমেনা অচেতন হয়ে পড়লে মুমূর্ষু ও অজ্ঞান অবস্থায় আমেনার চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে গেটের বাইরে ফেলে রাখা হয় নাতাশা ও তার পিতা লুলু মাস্টার। এসময় নাতাশার স্বামী জজ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলো। গৃহপরিচারিকা আমেনা একই উপজেলার আসাননগর গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। সংবাদ পেয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর মঞ্জুরুল ইসলামসহ এলাকার লোকজন আমেনাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিদাসপুরস্থ আল-আরাফা ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত হারদীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম শাইখ ফেরদৌস শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, এখনও আমেনার জ্ঞান ফেরেনি। তবে আশা করা যায় শিগগিরই জ্ঞান ফিরবে। এঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে লুলু মাস্টার, তার মেয়ে নাতাশা ও জজ আমিরুলের বিচার দাবি করে। এবং লুলু মাস্টারের বাড়ীতে ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালা দরজার গ্লাস ভাংচুর করে। আলমডাঙ্গা থানার এসআই হাকিম বলেন, আমরা খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বাড়ির মালিক লুলু মাস্টার বলেন, ছোট্ট একটা ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসী আমার জানালা দরজা ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তার জামাই জজ নুরুল ইসলাম এখন কোথায় চাকরি করেন এ প্রশ্নের জবাব দিতে চাননি লুলু মাস্টার। তবে বিশ্বস্তসূত্র জানিয়েছে, জজ নূরুল ইসলাম ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় সাব-জজ হিসেবে কর্মরত। প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট সাতক্ষীরায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাতাশা ১০ বছর বয়সী কাজের শিশু বিথীকে নির্মম নির্যাতন করেন। পরে পুলিশ মারাত্মক আহত অবস্থায় শিশু বিথীকে উদ্ধার করে। নাতাশা সে সময় ওই শিশুর মাথার চুল কেটে এবং হাতে, পিঠে ও নিতম্বে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতন করেন। যা পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তোলে। এবার সেই জজের স্ত্রী নাতাশার বিরুদ্ধে আবারও গৃহপরিচারিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। আলমডাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর আলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে জজের শ্বশুরালয়ে ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিবাদ জানায়।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’