পাখিভ্যান-ফুলকপি বিক্রির টাকা খুইয়ে নিঃস্ব তাঁরা!
- আপলোড তারিখঃ
১৪-১০-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খোয়ালেন দুজন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দুজন সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বুধবার পৃথকস্থানে এ দুটি ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া দুজন হলেন- আলমডাঙ্গার চিৎলা গ্রামের মৃত আবদুর রহমান বিশ্বাস ছেলে পাখিভ্যান চালক সুমন মিয়া (৪০) ও চুয়াডাঙ্গার রামনগর কলাবাড়ি গ্রামের নতুনপাড়ার ইউনুস আলীর ছেলে কপি ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান ফকির (৪৫)।
জানা যায়, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা থেকে রকেট মেইলট্রেনে করে ফুলকপি নিয়ে বিক্রির জন্য খুলনায় যান কপি ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান। গতকাল ভোরে আড়তে ফুলকপি বিক্রি করে সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে খুলনা থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। ট্রেনের মধ্যে জিয়াউর রহমানকে অচেনত অবস্থায় দেখতে পান একই গ্রামের হাসেম আলী। তিনিই জিয়াউর রহমানের পরিবারকে খবর দেয় ও জিয়াউর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে নামায়। পরে পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জিয়াউর রহমানের স্ত্রী চুমকী খাতুন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সারা দিন ফুলকপি তুলেছে খুলনায় নিয়ে যেয়ে বিক্রি করার জন্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যার রকেট ট্রেনে করে ফুলকপি নিয়ে খুলনায় গিয়ে সেগুলো বিক্রি করে আজ (গতকাল) চিত্রা ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর বেলা একজন মোবাইল করে বলে আমার স্বামী অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছে। এসময় চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। আমার স্বামীর কাছে শুধু তার মোবাইল পেয়েছি। তাঁর কাছে কত টাকা ছিল তা জানি না, তবে কোনো টাকায় পাওয়া যায়নি।
সদর হাসাপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। ট্রেনের মধ্যে তিনি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পরেছে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।’
এদিকে, গতকাল সকালে নিজ পাখিভ্যান বিক্রি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় সুমন মিয়া। সংসারের অভাব মেটাতে ভালো একটা কাজের আশায় ১৮ হাজার টাকায় নিজের পাখিভ্যানটি বিক্রি করেন তিনি। ভ্যান বিক্রির পরেই চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়ার এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি। খোয়া যায় তার সঙ্গে থাকা ভ্যান বিক্রির ১৮ হাজার টাকা। খবর পেয়ে বিকেল চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া জিয়াউর রহমান ও সুমন মিয়া হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল।
কমেন্ট বক্স